সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলের সাগরে সি-বিচে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ৩৩ ঘন্টা পর পর্যটক মো. রিয়াজ আহমেদের (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনগত রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে তিনি গোসলে নেমে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
নিহত রিয়াজ আহমেদ ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার কাঠালী পশ্চিমপাড়ার আবুল বাশার ঢালীর ছেলে। মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
এই ঘটনায় দুবলার চরে আসা অন্য পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আলোরকোল সি-বিচে কোনো লাইফগার্ড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা না থাকায় বারবার এমন প্রাণহানি ঘটছে। অবিলম্বে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম-২’ নামের একটি কাঠের তৈরি পর্যটকবাহী ছোট লঞ্চে করে ১৯ জনের একটি দল সুন্দরবনে ভ্রমণে আসে।
গত ৫ নভেম্বর সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলী স্টেশন থেকে তিন দিনের অনুমতিপত্র নিয়ে মান্দারবাড়ী নৌপথ দিয়ে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করে।
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে পর্যটকবাহী লঞ্চটি দুবলার চরের আলোরকোলে পৌঁছায়। পরে পর্যটকরা ট্রলারে করে চরে নামেন। একপর্যায়ে রিয়াজসহ কয়েকজন সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নামেন। এসময় সাগরের প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে রিয়াজ তলিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
আলোরকোল শুঁটকি পল্লির রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির শেখ জানান, পর্যটকবাহী লঞ্চ থেকে ট্রলারে করে পর্যটকেরা চরে নামেন। তাদের মধ্যে তিনজন সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটছিলেন। এক পর্যায়ে ঢেউয়ের তোড়ে তাদের একজন তলিয়ে যান।
বিষয়টি দেখতে পেয়ে জেলেরা দ্রুত ট্রলার নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। ঘটনার পরপরই আলোরকোল শুঁটকি পল্লির জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে তল্লাশি শুরু করেন।
পরে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। তবে সাগরের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে প্রথম দিন তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস জানান, নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে বন বিভাগের সদস্যরা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমুদ্র ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আসছিলেন।
শনিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আলোরকোল সি-বিচের পাশ থেকে বন বিভাগের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম জানান, পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ডের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত ছিল।



