বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ৩ কোটি ২৫ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এছাড়া, আগে দ্বিতীয় ডোজের ৬ মাস পর বুস্টার ডোজ দেওয়া হলেও এখন থেকে ৪ মাস পরেই বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৬ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ২৬তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
জাহিদ মালেক বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আমরা টিকা দেওয়ার বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩ কোটি ২৫ লাখ ডোজ দেওয়া হবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ২ কোটি ডোজ দেওয়া হবে। বাকিটা প্রথম ও বুস্টার ডোজ হিসেবে দেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে বুস্টার ডোজ দেওয়ার সময়সীমা ছিল ৬ মাস। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ৬ মাস লাগবে না, ৪ মাস পরেই দেওয়া যাবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরাও সময়সীমা কমিয়ে এনেছি। ইতোমধ্যে যাদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ৪ মাসের বেশি হয়ে গেছে তারা বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “বুস্টার ডোজের জন্য আগের নিয়মেই মোবাইলে এসএমএস যাবে। কেউ যদি এসএমএস নাও পায় তাহলে সে আসলেও টিকা দেওয়া হবে।”
সরকারের কাছে টিকার কোনো সংকট নেই বলে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে ৮ কোটির বেশি টিকা মজুত আছে। ইতোমধ্যে দেশে ১২ কোটি ৬২ লাখ প্রথম ডোজ, ৯ কোটি ৪ লাখ দ্বিতীয় ডোজ এবং ৫০ লাখ বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের ২২ কোটির বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও ৩ কোটি ডোজ দিতে পারলে আমাদের মোট টিকা দেওয়ার সংখ্যা ২৫ কোটি পার করবে। অর্থাৎ, দেশের মোট জনগণের ৭৫% এবং টার্গেটেড জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯৫ থেকে ১০০% মানুষ টিকা পাবেন।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে কী-না জানতে চাইলে জাহিদ মালেক বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের সব প্রস্তুতি আছে। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।”
টিকা নেওয়ার বিষয়ে সবার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যান্য দেশে ভ্যাকসিন না নেওয়ার জন্য ভাঙচুর করেছে, আন্দোলন করেছে। এ দিকে আমরা আমাদের দেশের নাগরিকদের প্রশংসা করি। তারা ভ্যাকসিন নিতে এগিয়ে আসছেন বলে আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি।”
৯৫ দিন পর দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সঙ্গে আক্রান্তের হারও কমে এসেছে। এর পেছনে টিকাদান কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, “গতকাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনেরও মৃত্যু হয়নি। এটা আমাদের জন্য একটি বড় বিষয়। আক্রান্তর সংখ্যাও সবচেয়ে কম ছিল বেশ কয়েক মাসের গড় হিসাবে। এটা খুবই আশাব্যঞ্জক। সবচেয়ে বড় লাভ মৃত্যু শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ভ্যাকসিন দিতে পারায় স্কুল-কলেজ খুলে গেছে। ভ্যাকসিন দেওয়ায় আমাদের দেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে।”
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের পেছনে নেওয়া পদক্ষেপর প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের একটি পূর্বশর্ত হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো থাকতে হবে। এটা আমরা নিশ্চিত করেছি। চিকিৎসার কোনো অভাব নেই, অক্সিজেনের অভাব নেই, ওষুধের অভাব নেই, বেডের অভাব নেই, আইসিইউয়ের অভাব নেই। যার ফলে রোগীরা খুব ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন।”



