বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তবে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নজরুল ইসলাম খান।
সোমবার (১৬ মে) নজরুল ইসলাম খান জানান, যুবলীগ নেতা সম্রাটের চিকিৎসার বিষয়ে বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। তার চিকিৎসা দেশেও হতে পারে আবার বিদেশেও হতে পারে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া ৪টি মামলায়ই জামিন পেয়েছেন সম্রাট। তার বিরুদ্ধে থাকা সবকটি মামলার জামিনের কাগজ হাসপাতালে পৌঁছালে সেখান থেকেই তিনি মুক্ত হবেন।
হাসপাতাল থেকে তার মুক্ত হওয়া ও ছাড়পত্রের বিষয়ে বিএসএমইউ পরিচালক জানান, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় সম্রাট এখনও চিকিৎসাধীন। সোমবার সকালেও চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিছু ওষুধ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। আরও ৩-৪ দিন পর্যবেক্ষণ করে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কার্ডিওলজিস্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্রাটের অ্যাডভান্সড স্টেজের চিকিৎসা দরকার। সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশে সেই স্টেজের চিকিৎসার সুযোগ এখনও তৈরি হয়নি। দেশের বাইরে চিকিৎসাগুলো অ্যাভেইলেবল আছে। বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী এ চিকিৎসাটি বাইরে করানো গেলেও ভালো।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থেকে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)। সেই সময় তার আরেকজন সহযোগী এনামুল হক আরমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অবৈধ সম্পদ, অস্ত্র বা মাদকের মামলা থাকলেও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এই সাবেক নেতা আলোচিত হয়েছিলেন ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার কারণে।
১১ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেন। অপর তিনটি মামলায় তিনি আগেই জামিন পেয়েছিলেন। এখন সবগুলো মামলায় জামিন হওয়ায় তিনি কারামুক্ত হতে চলেছেন।



