রংপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের এক শিক্ষার্থী ও তার বোনকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে মারধরের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে রংপুর মেডিকেলের ছাত্র চন্দন কুমার ও তার বড় বোন অন্বেষা রায়কে সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে চন্দনের সহপাঠীরা কলেজের সামনে নগরীর প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।
ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার বোন। তারা ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায়ের সঙ্গে দেখা করে ভোটার তালিকায় তাদের নাম নিবন্ধন করার জন্য প্রত্যয়নপত্র চান। এ নিয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলরের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কাউন্সিলর হারাধন চন্দন কুমারকে কিল ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। এ সময় চন্দনের বড় বোন ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লাথি মারেন কাউন্সিলর। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করেন।
এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বিমল চন্দ্রের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর এবং রংপুর মেট্রোপলিটান পশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি হারাধন রায় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ভোটার হওয়ার জন্য প্রত্যয়নপত্র নিতে দুজন ছেলে-মেয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। কিন্তু তারা কেউই আমার ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা নন। ফলে আমি তাদের পরিচিত কারও নাম বা মোবাইল নম্বর চাই। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। মারধর করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় আরও দুজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন যারা সত্যটা জানেন।
তবে, কাউন্সিলর যাদের কথা বলেছেন তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।



