ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় সড়কে জন্ম নেওয়া সেই নবজাতককে আজিমপুর ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গাড়িযোগে রাজধানীর আজিমপুরে পাঠানো হয়।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজী শিশুটিকে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ ও নবজাতকের দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলুর কাছে হস্তান্তর করেন।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওয়ালীউল্লাহ বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবে শিশুকল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবজাতককে ঢাকার আজিমপুর ছোটমণি শিশু নিবাসে পাঠানো হয়। সরকারি তত্ত্বাবধানে তাকে দেখাশোনা করা হবে।
শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, পরিবারের সম্মতিতে প্রশাসন আমার নাতনিকে আজিমপুর ছোট মনি শিশু নিবাসে পাঠিয়েছে। ইচ্ছা হলে আমি যেকোনো সময় তাকে দেখতে যেতে পারবো।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (শিশু ও নবজাতক) ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আমরা ১২ দিন ওই নবজাতকে চিকিৎসা দিয়েছি। জন্ডিস ও শ্বাসকষ্ট পুরোপুরি ভালো হলেও ঘাড়ে এবং ডান হাতে ফ্র্যাকচার ভালো হতে দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। ১২ দিন নবজাতকের চিকিৎসা দেওয়ায় তার প্রতি ভালোবাসা কাজ করছে।
গত ১৬ জুন দুপুরের পরে উপজেলার রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০), তার অস্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না আক্তার (৩০), মেয়ে সানজিদা আক্তারকে (৬) নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে ত্রিশালে আসেন। পৌর শহরের খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে জাহাঙ্গীর আলম, স্ত্রী রত্না এবং মেয়ে তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ সময় ট্রাকচাপায় রত্নার পেট ফেটে কন্যাশিশুর জন্ম হয়।



