Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তৃতীয় লিঙ্গের সাগরিকা হলেন রাজশাহী সিটির কাউন্সিলর

সিটির ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আনারস প্রতীকে ৬,২৬৩ ভোট পেয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের সাগরিকা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমা বেগম পেয়েছেন ৫,৭০০ ভোট

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩, ১১:৩৩ এএম

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা আহমেদ সাগরিকা। জনগণের ভালোবাসার এই ঋণ জনকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করে শোধ করতে চান সাগরিকা।

সিটির ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আনারস প্রতীকে ৬,২৬৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমা বেগম পেয়েছেন ৫,৭০০ ভোট।

বুধবার (২১ জুন) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়াম থেকে তাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী সিটি নির্বাচনে প্রথমবার তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন সাগরিকা। প্রথমবারই জনগণের সাড়া পেয়েছেন। এমন জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি ও ভোটাররা। 

জয়ের অনুভূতি জানিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাগরিকা বলেন, “ভোটে জেতার পর অশ্রুতে চোখ ভিজে আসছে। যারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবসময় জনতার পাশে থাকবো।”

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার আদায়ের সংগঠন “দিনের আলো হিজড়া সংঘ”র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন সাগরিকা। সুবিধাবঞ্চিত সাগরিকা নবম শ্রেণিতে ওঠার পর আর বিদ্যালয়ে টিকতে পারেননি। এরপর নানা সংগ্রামে কেটেছে তার জীবন। সব বাধা পেরিয়ে এবার জনপ্রতিনিধি হলেন। 

২০০০ সালে সাগরিকার উদ্যোগে “দিনের আলো হিজড়া সংঘ” সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৫ সালে মহিলা অধিদপ্তর ও ২০০৭ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায় সংগঠনটি। হিজড়াদের ভোটাধিকার, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশীদারত্ব নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। 

এই সংগঠনের নেতৃত্বের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সাগরিকা রাজনীতিতে সক্রিয় হন ২০২২ সাল থেকে।

নির্বাচনে তার এই জয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সুশীল সামাজের প্রতিনিধিরা। সুবিধাবঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় ফেরাতে সাগরিকা তৎপর থাকবেন- এমনটা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা বলেন, “সাগরিকা তিনটি ওয়ার্ডের মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছেন। ভোটাররা তাকে সহজভাবে গ্রহণ করেছেন। তার জয়ে আমরা খুশি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কেউ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের অধিকার আদায়ের পথ সহজ হবে।”

   

About

Popular Links

x