Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রথমে সাঁকো তারপর চরাট বেয়ে উঠতে হয় সেতুটিতে

১০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩, ০৬:০০ পিএম

১০ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কালী নদীতে নির্মাণ করা হয় একটি সেতু। উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষ এটি ব্যবহার করেন। কিন্তু সেতুটির নেই কোনো সংযোগ সড়ক। এক প্রান্তে রাস্তার মধ্যেই থাকা ছোট সাঁকো। সেটি পেরিয়ে খানিকটা এগোলে ফের বড় সাঁকো (স্থানীয়ভাবে চরাট নামে পরিচিত) ধরে উঠতে হয় সেতুতে। নামার সময়ও সেই চরাটই ভরসা।

অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সেতুটি উপকারের বদলে হয়েছে চরম জনদুর্ভোগের কারণ। সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি যান চলাচলের অনুপযোগী। আবার নদীর তুলনায় সেতুর আয়তন ছোট হওয়ায় বর্ষাকালে পানির চাপে দুই প্রান্তের কাঁচা রাস্তা ভেঙে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশের সাঁকো ধরে সেতুতে উঠে চলাচল করতে হয়। অপরিকল্পিত এই স্থাপনা লাখ লাখ সরকারি টাকার অপচয়। সেতুটি কল্যাণের বদলে জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৩২ টাকা। দুইপাশের সংযোগ সড়ক ছাড়াই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়। দশ বছর পরেও সেই অবস্থায়ই রয়ে গেছে সেতুটি।

নদীর মাঝে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে/ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয়রা জানান, নির্মাণের কয়েক মাস পরে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বালু দিয়ে কোনোমতে সংযোগ সড়কের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পরের বছরই বন্যায় সেই সড়ক ধসে যায়। এরপর তা আর সংস্কার করা হয়নি। কোনোমতে মানুষ চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। আর বর্ষার সময় কোনো কাজেই আসে না সেতুটি। 

অথচ উপজেলার সেতু সংশ্লিষ্ট জোয়ারদারপাড়া, শালঘর মধুয়া, কাচারীপাড়া,

দুধকুমড়া, খালপাড়া বাজার এলাকায় ধান, পাট, পেঁয়াজ এবং অনেক ধরনের শাকসবজি চাষ হয়। যাতায়াত ব্যবস্থার এই দুর্গতির কারণে পণ্য বাজারে নিতে সমস্যায় পড়েন তারা।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, “নদীর মাঝে সেতু করা হয়েছে। দুই পাড়ে রাস্তা নেই। হেঁটে চলাচলের জন্য বাঁশের চরাট ব্যবহার করি। দীর্ঘদিনেও এই

ভোগান্তির সমাধান হয়নি। রাস্তা না থাকায় আমাদের খুব কষ্ট হয়। ১০ মিনিটের পথ ৩০-৪০ মিনিট ঘুরে যেতে হয়। মাথায় ফসল নিয়ে পারাপারের সময় নদীতে পড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।”

যানবাহন ওঠার কোনো সুযোগ নেই/ঢাকা ট্রিবিউন

আমিন হোসেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সংযোগ সড়ক বাদেই নদীর মাঝখানে অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। জনকল্যাণের সেতুটিই এখন চরম জনদুর্ভোগের কারণ। আমরা সমাধান চাই।”

শিক্ষার্থী হিমেল বলেন, “নদীর মাঝখানে সেতুটি অনেক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দুইপাশে রাস্তা নেই। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারে চরম ভোগান্তি হয়। দীর্ঘদিন এভাবে রাস্তাবিহীন পড়ে আছে, তবুও কর্তৃপক্ষের কোনো নজরে আসে না। বর্ষা মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে কলেজে যেতে হয়। যত দ্রুত সম্ভব সেতুটির সড়ক নির্মাণ করা হলে সবারই উপকার হয়।”

এ বিষয়ে বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দুইপাশে রাস্তা নেই। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। মাটি দিয়ে রাস্তা করা হয়েছিল একবার। নদীর অনুপাতে ব্রিজটি ছোট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ হচ্ছে। তবে সড়ক নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।”

কুমারখালীর ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুল ইসলাম বলেন, “সেতুটির সংযোগ সড়কের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি মেরামত করা হবে।”

   

About

Popular Links

x