Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, দ্বিতীয়বার আক্রান্তের বিপদ বেশি

এ বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৩, ০৪:৫০ পিএম

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। দেশের প্রতিটি জেলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন আক্রান্তরা।

রবিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, এ বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চিকিৎসকেরাও উদ্বেগ জানিয়েছেন এমন পরিস্থিতিতে। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের চিকিৎসক নাসিফ আনোয়ার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এখন বর্ষাকাল, ডেঙ্গুর মৌসুম। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।”

ডেঙ্গু আক্রান্তের এই ভরা মৌসুমে সবচেয়ে বিপদজ্জনক অবস্থায় রয়েছে শিশুরা। এছাড়া যারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বিপদও বেশি বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ডক্টরি ডিজিটাল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারা খাতুনের সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ে কথা হয় ঢাকা ট্রিবিউনের। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বার হওয়া বেশি ক্ষতিকর। কারণ দ্বিতীয়বারে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর কিংবা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এগুলো হয় যা বেশ মারাত্মক।”

একই আশঙ্কার কথা সম্প্রতি ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবীর।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যখন ডেঙ্গুর ভাইরাসের একটি ধরন প্রথমবার শরীরে আক্রমণ করে তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু দ্বিতীয়বার অন্য ধরন আক্রমণ করলে সেটা তা প্রতিরোধ করতে পারে না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ধরুন আপনি প্রথমবার ডেন-ওয়ানে আক্রান্ত হলেন, শরীরে ওই ধরনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আছে। দ্বিতীয়বার যদি আপনি ডেন-টু আক্রান্ত হন, তাহলে সেটা নিরাপত্তা দেয় না। আবার ডেন-ওয়ানে সংবেদনশীল থাকাতে ডেন-টু দিয়ে যদি আক্রান্ত হয় তাহলে সেটা তাকে প্রতিরোধ দেবে না, কিন্তু অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া করবে। অতিমাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে গিয়ে এত প্রতিক্রিয়া হয় যে রোগীর প্লাজমা লিকেজ হয় এবং শকে চলে যায়।”

ষাটের দশকে দেশে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়। তবে ২০০০ সালের পর থেকে রোগটি সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গত পাঁচ বছরে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজারের বেশি রোগী। এর বাইরেও যারা হাসপাতালে ভর্তি হননি- এমন সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমাতে হলে প্রথমত সচেতনতা জরুরি। বাসা বা বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে এই রোগের জীবানুবাহী এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারবে না। 

এছাড়া মশার কামড় থেকে বাঁচতে এখন ঘুমানোর আগে অবশ্যই অবশ্যই মশারি টাঙানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

ডক্টরি ডিজিটাল হাসপাতালের চিকিৎসক আনোয়ারা বলেন, “এডিস মশা যেন ডিম না পারতে পারে, এর জন্য বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতিদিন মশারি টাঙাতে হবে এবং সবসময় সচেতন থাকতে হবে।”

ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে সামনের সারিতে রয়েছে শিশুরা। তারা আক্রান্ত হলে বাড়তি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সব সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ও সঠিক যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের চিকিৎসক নাসিফ আনোয়ারের মতে, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শিশুরা নিজেদের সমস্যা খুলে বলতে পারে না। তাই তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গু হলে স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে। গরম বলে মশারি টানানো নিয়ে মোটেই অবহেলা করা যাবে না। এছাড়া বাড়ি ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”

   

About

Popular Links

x