Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সমীক্ষা: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতার হার উচ্চ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৩, ১০:১৫ এএম

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে ঢাকা ট্রিবিউনের সহযোগিতায় সেন্টার ফর ডিসঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি), সিবিএম গ্লোবাল ডিজ্যাবিলিটি ইনক্লুশন এবং হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল-হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন এর যৌথ আয়োজনে “বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং পরিষেবা: মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে আইসিডিডিআর,বি এবং সেন্টার ফর ডিসঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) পরিচালিত “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার ও ঝুঁকি” শীর্ষক একটি জরিপের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। যেখানে দেখা গেছে, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৩.৮% বিষণ্ণতা এবং ৬২.৬% উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন। অন্যদিকে, ৫৫% প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতা উভয় লক্ষণ রয়েছে। এছাড়া, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণতাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩.২১ গুণ বেশি।

হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল - হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন পরিচালিত “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের অনানুষ্ঠানিক মানসিক স্বাস্থ্য সেবা এবং মনোঃসামাজিক সহায়তার প্রভাব বিশ্লেষণ” শীর্ষক আরেক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা এবং মনোঃসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা সম্পন্ন হওয়ার ছয় থেকে দশ মাস পর ২৯% ব্যক্তি আবারও একই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭% ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মনোঃসামাজিক সমস্যায় ভুগেছেন বলে জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪% ব্যক্তি প্রাপ্ত সহায়তার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলা করছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার ৮১%।

বৈঠকে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ভিত্তিতে (চারটি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল) বর্তমান ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে কিছু সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, দেশে মাত্র ০.৪৯% মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ রয়েছে। দেশে প্রতি এক লাখ মানুষেরর জন্য মাত্র ০.১৬ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ০.৩৪ জন মনোবিজ্ঞানী  এবং ০.৪ জন নার্স রয়েছেন। রোহিঙ্গাদের আগমনের পর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার “মেন্টাল হেলথ গ্যাপ” কর্মসূচির আওতায় ৩০২ জন চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী এবং কাউন্সেলরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দশ হাজার ত্রিশ জন চিকিৎসক, সাড়ে চার হাজার নার্স এবং উপ-সহাকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের বেশিরভাগ শহরাঞ্চলে কর্মরত, বিশেষ করে ঢাকা কেন্দ্রীক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা এবং মনোঃসামাজিক সহায়তা বিষয়ক কারিগরি বিশেষজ্ঞ ফারহানা নাজনীন এবং সিডিডির সমন্বয়কারী তাসলিমা আক্তার কেয়া।

যেসব সুপারিশ তুলে ধরলেন বিশেষজ্ঞরা

  • গ্রামীণ এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
  • তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সেবা গ্রহণের প্রতি তাদের অনীহা দূর করা।
  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সর্বজনীন মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রতি জোর দেওয়া।
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর সঠিক নকশা এবং পরিমাপ নিশ্চিত করা।
  • মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীর ঘাটতি পূরণে বিকল্প হিসেবে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবা প্রদান ব্যবস্থা চালু করা।
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নত করা। অর্জিত উন্নয়নের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং অগ্রগতি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া।
  • কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারকে সহযোগিতা করা এবং বাস্তবায়নে ব্যবহারিক উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া।
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিচর্যাকারী; বিশেষ করে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার, এনজিও এবং সুশীল সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে উত্সাহিত করা।

আলোচকরা যা বললেন

ডা. মো. রোবেদ আমিন, লাইন ডিরেক্টর, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সহজগম্য করতে বর্তমানে আমাদের কয়েকটি পাইলট প্রকল্প চলছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার হিসেবে সেবার অভিগম্যতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমি আশা করি, দিন দিন পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সামগ্রিকভাবে, মূলধারার স্বাস্থ্য সেবায় মানসিক স্বাস্থ্যের একীভূতকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্যারা-প্রফেশনাল, স্বেচ্ছাসেবক ইত্যাদির মাধ্যমে বিকল্প পরিষেবার ব্যবস্থাকে আমরা উত্সাহিত করি৷ তবে, এক্ষেত্রে গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে৷

ডা. অভ্র দাস ভৌমিক, পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্টিগমা সবচেয়ে বড় বাধা। ধর্মীয় নেতাসহ স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য নেতা ও ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। যাতে তারা সাধারণ মানুষের কাছে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

নাজিশ আরমান, চিফ অপারেটিং অফিসার, সূচনা ফাউন্ডেশন

প্রান্তিক মানুষের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সর্বজনীন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবং এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই মানসিক স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।

রাজেশ চন্দ্র, কান্ট্রি ডিরেক্টর, হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন বাংলাদেশ

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমি সরকারি সংস্থা, এনজিও এবং সুশীল সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে চাই। সরকার ও অন্যান্য অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মুহাম্মদ মুশফিকুল ওয়ারা, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সিবিএম গ্লোবাল ডিজ্যাবিলিটি ইনক্লুশন, বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস

কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করতে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহারিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিতে হবে।

এএইচএম নোমান খান,  নির্বাহী পরিচালক, সিডিডি

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাদানকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, এসব সেবাদানকারীর বিভিন্ন ধরনের মানসকি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই, এই সেবাদানকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মায়েদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়।

অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী,  প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করা এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলোর ওপর জোর দিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করলে বেশি কার্যকরী হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এগুলো রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব না, তাই যতটা সম্ভব প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

ডা. ইসরাত জাহান, টেকনিক্যাল ইউনিট ম্যানেজার, এইচআই বাংলাদেশ

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ-২০১৯ অনুযায়ী, ১৮.৭% প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা একেবারেই অপ্রতুল এবং গ্রামীণ পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে।

ইসমত জাহান নিপা,   ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং জাতীয় ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রধান, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশাপাশি আমাদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবতে হবে। তাদের কাছে শুধু সেবা পৌঁছে দিলেই হবে না; এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের মধ্য থেকে সেবা গ্রহণের অনীহা দূর করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে এখন শুধু কুসংস্কারই প্রধান বাধা নয়, সেবা নিতে মানুষের মধ্যে অনীহাও রয়েছে।

রিয়াজ আহমেদ.  নির্বাহী সম্পাদক, ঢাকা ট্রিবিউন

যদি স্বাস্থ্য খাতের মোট বাজেটের মাত্র ০.৫% মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ব্যয় করা হয়, তাহলে বাজেট বাড়ানোর জন্য জরুরিভিত্তিতে নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আক্তার লায়েক,  সভাপতি, আলোর ছায়া প্রতিবন্ধী সংস্থা

কমিউনিটি পর্যায়ে বেশিরভাগ মানুষই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানে না, তারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে পাগল হিসেবে অভিহিত করে। কিন্তু তাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তারা যেন এই সেবা সহযে পায় তাদের জন্য সে সুযোগ থাকা দরকার।

আবদুল্লাহ হারুন,  ফোকাল পার্সন, মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল

দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেই। এমনকি কিছু জায়গায় এমনও দেখা গেছে যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্দেশিত নকশা ও পরিমাপ সঠিকভাবে মানা হয়নি। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 মেরিনা,  পিয়ার রেসপন্ডার, আলোর ছায়া প্রতিবন্ধী সংস্থা

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত করতে আমি কমিউনিটি পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে কাজ করেছি। আমি সেখানে দেখেছি যে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কতটা প্রয়োজন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা অন্যদের তুলনায় কম কথা বলার সুযোগ পায়।

নাসরিন জাহান,  নির্বাহী পরিচালক, ডিজএ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশন (ডিসিএফ)

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি প্রয়োজন, যেখানে ৫-৩০ বছর বয়সী প্রত্যেকেই সেবা পাবেন। এটি করা গেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ হবে। এমনকি স্কুলগামী শিশুরাও বিষয়টি বুঝতে পারবে এবং এটি নিয়ে আলোচনা করবে।

রুবিনা জাহান  ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম প্রধান, সাজিদা ফাউন্ডেশন

আমরা অধিকারভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার কথা বলছি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কীভাবে সবচেয়ে সহজ উপায়ে সেই সকল সেবা পেতে পারে সেই বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া যেন কোনভাবেই কঠিন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

   

About

Popular Links

x