বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা ও লুটের ১৬ ঘণ্টার মাথায় এবার থানচি উপজেলার দুটি ব্যাংক থেকে টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একদল সশস্ত্র লোক দুটি গাড়িতে করে এসে পাশাপাশি থাকা কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক শাখায় হামলা চালায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনালী ব্যাংকের থানচি শাখার ম্যানেজার শামসুল হুদা ও কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার হ্লাচিং থোয়াই। তারা জানান, ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে এই ঘটনা ঘটায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার কারণে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন জানান, সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে লুট হয়েছে। তবে টাকার পরিমাণটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও বাজারের লোকজনদের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর জেলার থানচি উপজেলার সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল ১৫ মিনিট অবস্থান নিয়ে হামলা করে। এসময় তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় আতঙ্কে উপজেলার সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা এবং স্থানীয়রা পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেকে পালিয়ে সাঙ্গু নদীর তীরে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ৫০-৬০ জনের সশস্ত্র দল রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংককে প্রবেশ করে। এসময় অস্ত্রের মুখে ব্যাংকের পাহারায় থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দুটি সাব-মেশিন গান ও ৬০ রাউন্ড গুলি, আটটি চাইনিজ রাইফেল ও ৩২০ রাউন্ড গুলি এবং চারটি শর্টগান ও ৩৫ রাউন্ড গুলি লুট করে তারা।
এসময় ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। এখন পর্যন্ত ব্যাংকের ম্যানেজারকে উদ্ধার করা যায়নি।
বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতি ও ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র লুটের পর বুধবার সকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন, পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রুমা ও থানচির ঘটনা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, “তারা পুলিশ ও আনসারের অস্ত্র নিয়েছে, ম্যানেজারকে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের সক্ষমতা রয়েছে, কোনো ঘাটতি নেই। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন।
জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, “আমরা একটু অসুবিধায় রয়েছি। এই ঘটনার পর সিআইডিসহ সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে। সবকিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”



