Thursday, October 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আইনজীবীদের ‘সরি’ বললেন ব্যারিস্টার সুমন

রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ শেষে প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীকে উদ্দেশ্য করে কথা বলতে চান ব্যারিস্টার সুমন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম

আদালতে আইনজীবীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রিমান্ড শুনানি শেষে এ দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে, মঙ্গলবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে ব্যারিস্টার সুমনের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীকে উদ্দেশ্য করে কথা বলতে চান ব্যারিস্টার সুমন। তবে তখন ফারুকী কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি চেহারা ঘুরিয়ে হাত নেড়ে ইগনোর করেন।

এ সময় সুমন বলেন, “আপনার সঙ্গে আলাদা করে কিছু বলব না স্যার। আপনার মাধ্যমে সব আইনজীবীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি খুব সরি স্যার।”

ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, “আসামি ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ৫ আগস্টের পর মানুষকে বুঝিয়েছে সে লন্ডনে রয়েছে। অথচ সে তার বোনের বাসায় আত্মগোপনে ছিল। কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি করে না। তারা ভেলকি দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। সে নিজেকে সেলফি এমপি হিসেবে দাবি করে। সে চুনারুঘাটে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনি এলাকায় কয়েকটা কালভার্ট দেখিয়ে সে অনেক প্রতারণা করেছে। ফেসবুকে এসব দিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং করে সে প্রতারণা করতো।”

শুনানিতে তিনি আরও বলেন, “নামের সামনে ব্যারিস্টার শব্দ থাকায় মানুষ তার প্রতারণা ধরতে পারে না। কোটা আন্দোলনে সে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলন করে ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সে সেখানে বলেছে, ‘কেউ নাই হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে’। এমন কৃতকর্ম করেছে, যার জন্য তার পালিয়ে থাকতে হয়েছে। তার চতুরতার একটা নমুনা, গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও বার্তা দিয়ে মানুষকে জানাচ্ছে সে নিজেই ধরা দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। মামলার বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বাদী হৃদয় পঙ্গু হসপিটালে ছিলেন। এ বাংলাদেশে সুমনদের মতো প্রতারক ও খুনি যেন আর না আসে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সুমনের গুলি করার রেকর্ড আছে। তার সঙ্গে জড়িত অনেক আসামির তথ্য সে জানে। তার কাছ থেকে গুলি ও আসামিদের তথ্য জানার জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করছি।”

এরপর আসামিপক্ষে একজন আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

এর আগে ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার মিরপুর ৬ নম্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার বাদী মিরপুরের বাঙালিয়ানা ভোজ হোটেলের সহকারী বাবুর্চি হৃদয় মিয়া। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি গুলিতে আহন হন। সরকার পতনের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় তিনি এই হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

   

About

Popular Links

x