Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মোটরসাইকেলকে ‘সাইড না দেওয়ায়’ ৪০ কিলোমিটার ধাওয়া করে বাসে হামলা

ইটের আঘাতে আহত চালক যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাস চালিয়ে যান

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:২০ পিএম

মোটরসাইকেলকে সাইড না দেওয়ায় মধ্যরাতে ৪০ কিলোমিটার ধাওয়া করে বাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে একদল তরুণের বিরুদ্ধে।

বাসটি থামানোর জন্য চালককে লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ইট ছোড়েন ওই তরুণরা। এতে চালক আহত হন। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাস চালিয়ে যান তিনি। এতে রক্ষা পান নারী-শিশুসহ বাসটিতে থাকা ৩৮ জন যাত্রী।

তবে হামলায় বাসচালক মো. সোহেলের চোয়াল থেঁতলে গেছে। মাথা ও চোয়ালে লেগেছে ৩১টি সেলাই। ভেঙে গেছে নিচের পাটির দুটি দাঁত। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার (৩১ মার্চ) মধ্যরাতে একুশে পরিবহনের যাত্রীবাহী ওই বাসটি ঢাকা থেকে নোয়াখালীতে যাচ্ছিল। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হলে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে করে একদল তরুণ বাসটির অনুসরণ শুরু করেন। প্রায় ৪০ কিলোমিটার বাসটিকে ধাওয়া করেন তারা।

বাসটিকে থামাতে না পেরে মোটরসাইকেলের আরোহীরা প্রথমে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর ছাতারপাইয়া রাস্তার মাথায় ওপর বেগমগঞ্জের আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজের সামনে চালক সোহেলকে উদ্দেশ্য করে ইট ছোড়েন। এতে তার চোয়াল থেঁতলে যায়। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাস চালিয়ে যান তিনি। এতে রক্ষা পান যাত্রীরা। পরে তাকে মাইজদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বাসচালকের সহকারী মোহাম্মদ রাহাত প্রথম আলোকে জানান, দুই দফায় ইটের আঘাত লাগে সোহেলের মাথায়। তবু তিনি থেমে যাননি। প্রথম আঘাতের পর তার মুখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাস চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

রাহাত বলেন, “দুর্ঘটনা এড়াতে পথে কোনো যাত্রীকে নামতে দেইনি। বাসটি সরাসরি নোয়াখালীর সুধারাম থানার সামনে গেলে সব যাত্রী দ্রুত থানায় ঢুকে পড়েন।”

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ আজ শনিবার প্রথম আলোকে জানান, সোহেলের মাথা ও চোয়ালে ৩১টি সেলাই লেগেছে। ভেঙে গেছে নিচের পাটির দুটি দাঁত। তবে তার অবস্থা এখন উন্নতির দিকে।

আহত চালক সোহেলের ছোট ভাই মেহেদী হাসান বলেন, “ভাইয়ের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা বাসমালিক দিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, “হামলাকারীরা ডাকাত নন। ঘটনাস্থলের একটি দোকানের সামনের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ফুটেজে দেখা গেছে, ঈদের দিন সোমবার রাতে দোকানের সামনে একদল তরুণ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। এ সময় তাদের মোটরসাইকেলকে সাইড না দিয়ে একুশে পরিবহনের বাসটি চালানো হচ্ছিল। তারা বাসটি থামাতে চাইলে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যেতে থাকেন চালক। এ অবস্থায় ৮-১০টি মোটরসাইকেল আরোহীরা বাসটি ধাওয়া করেন।”

এদিকে, বাসমালিক মো. জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ঘটনার পর সুধারাম মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান তিনি। কিন্তু থানা থেকে সোনাইমুড়ী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সোনাইমুড়ী থানা থেকে আবার লাকসাম থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মামলার বিষয়ে প্রথম আলো জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম জানান, হাইওয়ে পুলিশের মামলা নেওয়ার কিংবা তদন্ত করার ক্ষমতা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, “এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। পরে আপডেট জানাব। বাসটির মালিক জহিরুল ইসলাম আমার কার্যালয়ে এসেছেন। তিনি মামলা দিতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে।”

   

About

Popular Links

x