নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অটোরিকশা আটকে ভাইয়ের সামনে যুবলীগের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। নিহতের নাম আবদুল কাদের মিলন (৩৫)। তিনি উপজেলার চর হাজারী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার চর পাবর্তী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুর রহিম এতিমখানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবদুল কাদেরের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহত যুবলীগ নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে থাকা আবদুল কাদের মির্জার ‘‘হেলমেট বাহিনীর’’ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি কাজ করতেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তার ঠিকাদারি কাজগুলো বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতা–কর্মী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। এরপর তিনি সৌদি আরবে চলে যান। কয়েক দিন আগেই দেশে ফিরেছেন।
নিহতের ছোট ভাই আবদুর রহিম সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “তিনি একটি অটোরিকশার চালক। ভাই শুক্রবার রাতে আমার অটোরিকশায় ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় তার অসুস্থ শ্যালককে দেখতে যান। পরে তাকে নিয়ে আমি দাগনভূঞা এলাকা থেকে নিয়ে গ্রামে ফিরছিলাম। পথে কোম্পানীগঞ্জের চর পার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরীরহাট এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল তাদের পিছু নেয়। অটোরিকশা একই ইউনিয়নের পোলের গোড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা আরোহীরা তাদের পথরোধ করেন। পরে তার ভাইকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়। সেখান থেকে মারতে মারতে পার্শ্ববর্তী এতিমখানার সামনে নিয়ে যান। সেখানে আরও কয়েকজন লোক এসে তার ভাইকে নির্মমভাবে পেটাতে থাকেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় তিনি ভাইকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও অনেক মারধর করা হয়।”
আবদুর রহিম অভিযোগ করে আরও বলেন, “মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা তার ভাইকে অচেতন অবস্থায় সেখানে ফেলে রাখেন। এরই মধ্যে টহল পুলিশের একটি গাড়ি দেখে তিনি পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করেন তার ভাইকে উদ্ধারের জন্য। হামলাকারীরা পুলিশের সামনেও তার ভাই এবং তাকে মারধর করেছেন। পরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর আরও কিছু সদস্য ঘটনাস্থলে এসে তার ভাই ও তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তার ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের আমির বেলায়েত হোসেন সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “তিনি শুনেছেন, যুবলীগের এক নেতাকে গণপিটুনি দিয়ে এলাকার লোকজন হত্যা করেছে। ঠিকাদারী ব্যবসার লেনদেন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের লোকজনের সঙ্গে ওই নেতার বিরোধ ছিল। এই ঘটনার সঙ্গে জামায়াত কিংবা ছাত্রশিবিরের কেউ জড়িত ছিলেন না। কেউ অভিযোগ করে থাকলেও সেটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, “তিনি শুনেছেন জামায়াত-শিবিরের লোকজন ওই যুবলীগ নেতাকে আটক করে মারধর করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি কিংবা সহযোগী সংগঠনের কেউ জড়িত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এ ঘটনায় জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, “শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এক ব্যক্তিকে লোকজন মারধর করে আটকে রেখেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নিহত ব্যক্তি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে কারা মেরেছে- তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



