Wednesday, July 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জেনে নিন এ বছর রাজশাহীর কোন আম কবে পাওয়া যাবে

এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে

আপডেট : ০৭ মে ২০২৫, ০৭:৩১ পিএম

সারাদেশে বিশেষ কদর রয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের আমের। প্রতিবছর তাই মৌসুমের শুরুতেই মানুষ উৎসুক হয়ে থাকেন রাজশাহীর আম কবে বাজারে আসবে তা জানার জন্য। এ বছর ১৫ মে থেকে আমের মৌসুম শুরু হচ্ছে রাজশাহীতে। ওইদিন থেকে সব ধরনের গুটি আম গাছ থেকে নামিয়ে বাজারজাত করতে পারবেন চাষিরা। গুটি আম কিছুটা টক-মিষ্টি স্বাদের হয়।

রাজশাহীর সবচেয়ে জনপ্রিয় আম হলো হিমসাগর বা খিরসাপাত ও ল্যাংড়া। এ দুটি আম পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন। ৩০ মে হিমসাগর এবং ১০ জুন আসবে ল্যাংড়া আম। মোটামুটি ভালো জাতের আম গোপালভোগ আসবে ২০ মে থেকে।

বুধবার (৭ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলার আম নামানোর সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে আম সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এই ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।

অপরিপক্ক আম নামানো, কেমিকেল দিয়ে পাকানো এবং বাজারজাত ঠেকাতে কয়েক বছর ধরেই ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করছে জেলা প্রশাসন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে সালমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার। জেলার আম চাষিদের অনেকেই এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহীর “ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার” অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম নামিয়ে বাজারজাত করতে পারবেন চাষিরা। গত বছর গুটি আম নামানো শুরুর হয়েছিল একই দিন, ১৫ থেকে। 

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে রানীপছন্দ এবং লক্ষণভোগ, ৩০ মে হিমসাগর বা খিরসাপাত, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন থেকে আমরুপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম নামানো যাবে। এছাড়া সারাবছর নামানো যাবে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের বারোমাসি আম।

সভায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, “কোনো দুর্যোগ হলে বা গরমে আগাম আম পেকে গেলে চাষিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নমুনা দেখিয়ে অনুমতি নিয়ে আগাম আম নামাতে পারবেন। আমে যেন কেউ কোনো কেমিকেল ব্যবহার না করেন- সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর রাজশাহী জেলায় আমের বাগান রয়েছে ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে। এতে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। জেলায় উৎপন্ন এই আম এক হাজার ৬৯৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে সালমা বলেন, “এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। কোনো দুর্যোগ না হলে চাষিরা ভালো ফলন পাবেন।”

কৃষকরা জানান, অনুকুল আবহাওয়া না থাকায় গত দুই বছর আমের উৎপাদন ভালো হয়নি। তাই গত দুই বছর আমের বাজার ছিল চড়া। তবে এবার মুকুলের সময় আবহাওয়া অনুকুলে ছিল। চৈত্র মাসের শুরুতে এবং এরপরও কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছে। এতে আমের গুটি কম ঝরেছে। আমের আকার বড় হয়েছে। সেচ কম লেগেছে। সামনের দিনগুলোতে কোনো দুর্যোগ না আসলে গত দুই বছরের তুলনায় এবার আমের ফলন ভালো হবে।

   

About

Popular Links

x