রাজশাহীর নগরীর বিনোদপুর এলাকায় খাবার দিতে দেরি হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর এবং পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তির নাম মো. ফয়েজ। তিনি নগরের মতিহার থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত।
ককটেলের বিস্ফোরণে তিনি পায়ে আঘাত পান। প্রথমে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমজান বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিনোদপুরে বাংলা টিফিন নামের ওই রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে যান রমজান। খাবার দিতে দেরি হওয়ায় হোটেলের এক কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। কিছু সময় পর রমজানের অনুসারীরা ছুরি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিনের পাশাপাশি একই মালিকের আরেকটি রেস্তোরাঁয় (বঙ্গভোজ) হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ও রেস্তোরাঁর কর্মীদের লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০-৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করছেন।
রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মুর্শেদ শাকিল বলেন, “আজ সকালে কর্মচারীরা রেস্তোরাঁ খুলতে গেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাদের হুমকি দেয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রমজানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, “রমজানকে প্রথমে এক প্যাকেট পার্সেল খাবার দেওয়া হয়। পরে আরেকটি প্যাকেট দিতে ২০ মিনিট সময় লাগবে জানালে রমজান উত্তেজিত হয়ে তর্কে জড়ান। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। এর মধ্যেই তার লোকজন দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালান।”
ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা দেখাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলায় রমজান, বাদশাহ এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



