Saturday, June 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিয়ে যা বললেন মামুনুল হক

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই দাবি করেন

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

২০২১ সালের আলোচিত নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টকাণ্ডকে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের একটি ‘ব্যর্থ প্রজেক্ট’ ও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। 

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। একই সঙ্গে ওই ঘটনার পর এই প্রথম জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে তার বর্তমান পারিবারিক সম্পর্কের অবস্থান এবং '৫০১ নম্বর কক্ষ' নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক পোস্টে উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরাকে (ঝর্ণা) নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে তাদের হেনস্তা করে। পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে তিনি স্ত্রীকে ওয়াশরুমে রাখলেও নারী পুলিশ সদস্যরা সেখানে ঢুকেও লাইভ করেন।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা উভয়েই বৈবাহিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে জানালেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা ছড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে ডিজিএফআই কর্মকর্তারা এসে তাদের থানায় নেওয়ার নির্দেশ দেন। মামুনুল হক প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস ও রুমে ঢুকে হেনস্তা করার বৈধতা কতটুকু? তিনি রাষ্ট্রীয় আইন বা শরিয়ত, কোনোটিই লঙ্ঘন করেননি বলে দাবি করেন।

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে মামুনুল হক জানান, জান্নাত আরা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাত আরার সম্মতিক্রমেই শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

উপমহাদেশে একাধিক বিয়ে সামাজিকভাবে জটিল হওয়ায় প্রথম পরিবারে অস্থিরতা এড়াতে এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতির আইনি জটিলতার কারণে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বলে জানান তিনি। প্রথম স্ত্রীকে ফোনে জান্নাত আরাকে ‘শহিদুলের স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রী আগে থেকেই জান্নাত আরাকে ওই নামে চিনতেন, তাই পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তিনি সেই পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন।

তবে জান্নাত আরার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে মামুনুল হক জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। ২০২১ সালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বিভিন্ন মনোমালিন্যের কারণে আলোচনার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং নিজের কারাবাসকালেও তিনি ঝর্ণার সব অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘মুতা বিয়ে’ বা ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’র অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খেলাফত মজলিসের আমির দাবি করেন, রিসোর্ট ঘটনার পর তৎকালীন এনএসআই মহাপরিচালক তার সঙ্গে বৈঠক করে হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর জান্নাত আরা, তার বাবা ও সাবেক স্বামীর ওপর বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করা হয়। আদালতে জান্নাত আরার ছেলেকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে উৎসাহিত করা হলেও সে আদালতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরায় তৎকালীন সরকারের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।

নিজের বিরুদ্ধে চলা এই প্রচারণাকে তৎকালীন সরকারের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ দাবি করে মামুনুল হক বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে পরিচালিত চরিত্রহননের উদাহরণের কথা টেনে আনেন। নিজের বক্তব্যকে কেউ মিথ্যা প্রমাণ করতে চাইলে পবিত্র কুরআনের সূরা আল ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি ‘মুবাহালা’র (মিথ্যাবাদীর ওপর আল্লাহর লানত বর্ষণের চ্যালেঞ্জ) আহ্বান জানান।

পোস্টের শেষাংশে মামুনুল হক বলেন, ‘৫০১’ নম্বর কক্ষটি আমার কাছে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়; বরং এটি ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ও তার দোসরদের পরাজয়ের দলিল। ‘৫০১’কে আমরা বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছি এবং ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করা হবে।”

   

About

Popular Links

x