Thursday, June 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাঙ্গুয়ার হাওড়ে হাউজবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা

জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই সংরক্ষিত এলাকাকে রক্ষায় এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন

আপডেট : ১০ জুন ২০২৫, ০৩:১৯ পিএম

পরিবেশগত দিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড় দিন দিন আরও বিপন্ন হচ্ছে। পর্যটন বিকাশের নামে পরিবেশের প্রতি খেয়াল রেখে এখানে ইকো-ট্যুরিজম বিকাশের কথা থাকলেও ভ্রমণের নামে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক হাওড়ের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘুরছে বেড়াচ্ছেন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপার লীলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওড়।

তবে প্রকৃতি আর জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই সংরক্ষিত এলাকাকে রক্ষায় এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকবাহী হাউজবোট ও লোকালবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (৯ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল হাসেম।

এছাড়াও ইউএনও তাহিরপুরের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, “টাঙ্গুয়ার হাওড়ে পর্যটকবাহী সকল হাউজবোট ও লোকালবোটে উচ্চস্বরে গান বাজানো নিষেধ। এ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যত্যয় ঘটলে হাওরে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জানা গেছে, “ছয় কুড়ি বিল নয় কুড়ি কান্দা” নিয়ে গঠিত টাঙ্গুয়ার হাওড়ের অবস্থান সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায়। প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই জলাধারটি প্রধান আকর্ষণ জীববৈচিত্র্য। সুউচ্চ মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা দৃষ্টিনন্দন এই জলাভূমিতে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির পাখি, ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২ প্রজাতির ব্যাঙ, ১৫০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং হাজারেরও বেশি প্রজাতির অমেরুদণ্ড প্রাণী।

১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওড়কে “পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০০০ সালে ২০ জানুয়ারি এ হাওড়কে “রামসার সাইট” হিসেবে ঘোষণার পর বিশেষ ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে এই হাওড়ে আসতে হয়। তবে সবাই এই নিয়ম ঠিকভাবে মানছে না বলে হাওড়টি বিপন্ন দিকে যাচ্ছে।

লেখক ও সমাজকর্মী আবুল হোসেন বলেন, “টাঙ্গুয়ার হাওড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একে ‘রামসার’ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু হাওড়ে যেভাবে গান-বাজনা, নাচ, আর বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটছে, তা পরিবেশ ও প্রতিবেশ দু’টোরই জন্য ভয়ংকর।”

পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, “উচ্চস্বরে গান-বাজনা শুধু শব্দদূষণই নয়, এটি জলচর পাখি ও জলজ প্রাণীদের প্রজনন ও বসবাসেও বিঘ্ন ঘটায়। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।”

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, “বোটগুলোতে রাত-বিরাতে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি হাওড়ে প্লাস্টিক ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।”

   

About

Popular Links

x