Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মেঘনা আলমের ডিভাইসে রাষ্ট্রবিরোধী তথ্য আছে কি না, তদন্তে আদালতের নির্দেশ

আদালতে তার হাতে ছিল খেজুর ও জায়নামাজ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৫, ০৩:২৪ পিএম

প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মডেল ও লিডারশিপ ট্রেইনার মেঘনা আলমের জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইসে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

সকাল ১১টার দিকে মেঘনা আলম আদালতে হাজির হয়ে পাসপোর্ট, আইফোন-১৬ প্রো, ম্যাকবুক, অপো মোবাইলসহ ব্যক্তিগত ডিভাইস ফেরতের আবেদন জানান। এসময় তার হাতে ছিল খেজুরের বক্স  ও একটি জায়নামাজ।

আবেদনের শুনানিতে মেঘনার আইনজীবীরা জানান, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন ট্রেইনার এবং বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গেলে এসব ডিভাইস তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে এসব ফেরতের জন্য তারা প্রমাণপত্র জমা দেবেন বলেও জানান।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. হারুন অর রশিদ তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, “আসামি বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিক ও দেশের বিত্তশালীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তার মোবাইল ও ল্যাপটপে থাকা তথ্যের মাধ্যমে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্ল্যাকমেইল করেছেন, তা জানা জরুরি।”

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘনা বলেন, “আমার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের প্রফেশনাল সম্পর্ক ছিল, তিনি আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিলেন, প্রমাণ আমার কাছে আছে।”

তখন বিচারক তাকে বলেন, “এটা এখন আলোচনার বিষয় নয়।”

মেঘনা আরও বলেন, “বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে আমার মতো কর্মীদের ওপর নির্ভর করে। আমি ছয়টি মহাদেশে ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছি, নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করেছি। তাই আমার ডিভাইসগুলো ফেরত চাই।”

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, “এ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি নারীদের ব্যবহার করে কূটনীতিকদের ব্ল্যাকমেইল করতেন।”

এর প্রতিবাদে মেঘনা বলেন, “আপনি রাষ্ট্রদূতকে অসম্মান করছেন। আমি এখন পর্যন্ত নিরপরাধ।”

এই বক্তব্যের পর উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

শুনানি শেষে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, মেঘনার মোবাইল, ল্যাপটপ ও ম্যাকবুকে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান আছে কি না তা যাচাই করে এবং মালিকানা নিশ্চিত করে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেঘনা আলম, দেওয়ান সমিরসহ আরও ২-৩ জন মিলে একটি প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন। তারা বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও স্মার্ট নারীদের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ধনাঢ্য ও কূটনীতিকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি করেন।

দেওয়ান সমির "কাওয়াই গ্রুপ' ও "সানজানা ইন্টারন্যাশনাল"-এর সঙ্গে জড়িত। তার পুরনো ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান "মিরআই ইন্টারন্যাশনাল" থেকেও নারীদের ব্যবহার করে বিদেশিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিনের জন্য মেঘনা আলমকে আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সেই আদেশ বাতিল হয়। ১৭ এপ্রিল তাকে ধানমন্ডি থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং ২৮ এপ্রিল তিনি জামিনে মুক্তি পান।

   

About

Popular Links

x