ডেভেলপার কোম্পানিগুলোকে সাইনিং মানির ওপর ১৫% কর আগে দিতে হতো ভূমির মালিকদের।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রাপ্ত ফ্ল্যাট ও অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার মূল্যের ওপরও ১৫% ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে ভূমির মালিকদের।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে যে ফ্ল্যাট পাবেন, তার মূল্য নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকার নির্ধারিত মৌজামূল্যের ভিত্তিতে। এরপর জমি কেনা বা অর্জনের সময়কার মূল্য বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংশকে মূলধনী মুনাফা (ক্যাপিটাল গেইন) হিসেবে ধরা হবে। সেই মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি ২০ বছর আগে ৫০ লাখ টাকায় একটি জমি কিনে থাকেন এবং বর্তমানে ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি করে ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানির পাশাপাশি ৫ কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট পান, তাহলে তার মোট প্রাপ্তির পরিমাণ হবে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেখান থেকে জমির আগের মূল্য ৫০ লাখ টাকা বাদ দিলে করযোগ্য মুনাফা দাঁড়াবে ৫ কোটি টাকা। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে তাকে ৭৫ লাখ টাকা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হতে পারে।
সরকারের যুক্তি হলো, ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্যান্য অ-নগদ সুবিধাও এক ধরনের আর্থিক লাভ। তাই এগুলোকে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনা করে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য গোপন করার প্রবণতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রেতাদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।



