চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ২৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি হলেও গত ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) ডলার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, এই তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। দেশের ইতিহাসে রেমিটেন্স প্রবাহে এমন উল্লম্ফন আগে কখনো দেখা যায়নি। এই সময়ের মধ্যে একক মাস হিসাবে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার এসেছিল মার্চে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার আসে মে মাসে এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার আসে ডিসেম্বরে।
তবে জুনে এসে সেই ধারায় ছেদ পড়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে প্রবাসীরা পাঠান ২৮১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছে ২৮৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, আর অগাস্টে ২৯৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো মাসেই রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়নি।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন। বছরজুড়েই অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উল্লম্ফন ছিল। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ৩৩ কোটি (২০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার।



