চীনের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবাকে ছয়টি আলাদা ইউনিটে বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ইউনিটের জন্য তহবিল সংগ্রহ বা তালিকা অন্বেষণের পরিকল্পনাও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২০ সালের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আলিবাবার বিরুদ্ধে কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। এরপর থেকে চীনা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম প্রায় ৭০% কমে গিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সেই শেয়ারের দাম আবার ১৪% এর বেশি বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) দেওয়া এক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্তকে (ছয় ভাগে বিভক্ত হওয়া) প্রতিষ্ঠানের ২৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে আলিবাবা। বিভক্ত ইউনিটগুলো হচ্ছে- ক্লাউড ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ, তাওবাও টিমল কমার্স গ্রুপ, লোকাল সার্ভিসেস গ্রুপ, কাইনিয়াও স্মার্ট লজিস্টিকস গ্রুপ, গ্লোবাল ডিজিটাল কমার্স গ্রুপ এবং ডিজিটাল মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ।
প্রায় বছরখানেক ধরে পাদপ্রদীপের আড়ালে ছিলেন আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। সোমবার তিনি দেশে ফেরান। জ্যাক মার দেশে ফেরার পরদিনই আলিবাবাকে ৬টি আলাদা ইউনিটে বিভক্ত করার পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
আলিবাবাকে ছয়টি আলাদা ইউনিটে বিভক্ত করার পরিকল্পনাকে গত দুই বছরে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চীনের সরকারে প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিভক্তি আলিবাবাকে সরকারি কর্তৃপক্ষের ভ্রুকুটি থেকে কিছুটা হলেও বাঁচাতে পারে। তাদের ফুলে-ফেঁপে ওঠা দীর্ঘদিন ধরেই চীন সরকারের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিল।
কর্মীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আলিবাবার প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল ঝাং বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানকে আরও কর্মদক্ষ করা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলোকে সংক্ষিপ্ত করা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিস্থিতি তৈরি করাই এ সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য।
ড্যানিয়েল ঝাং জানান, প্রতিটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে বাজারের দ্রুত পরিবর্তনকে মোকাবিলা করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে একজন উদ্যোক্তার মানসিকতায় ফিরে যেতে হবে বলেও জানান আলিবাবার প্রধান নির্বাহী।
ঝাং আলিবাবা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সিইওর দায়িত্ব সামলাবেন। পাশাপাশি তিনি ক্লাউড ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের সিইও পদেও থাকবেন।
আলিবাবার পক্ষ থেকে বলা হয়, ছয় ইউনিটের প্রত্যেকটিতে একজন সিইওর পাশাপাশি একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। অধিকাংশ বিভক্ত ইউনিটগুলো চীনের বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে। শুধুমাত্র চীনের ই-কমার্স ইউনিট তাওবাও টিমল কমার্স গ্রুপ সম্পূর্ণ আলিবাবার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে।
বিনিয়োগকারীরা আলিবাবার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। তবে এ বিভক্তির পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।



