Thursday, June 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে অনলাইন শপিং

ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্য বাড়ানোয় অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে ভোক্তাদের

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ০৩:৪৮ পিএম

মুদ্রাস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে ডেলিভারি খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনলাইনে কেনাকাটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্য বাড়ানোয় অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

এসএ পরিবহন, সুন্দরবন, ইকুরিয়ার এবং পেপারফ্লাই-এর মতো লজিস্টিক কোম্পানিগুলো তাদের চার্জ বাড়িয়েছে।

দেশের শীর্ষ দুটি কুরিয়ার ও লজিস্টিক পরিষেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ই-কুরিয়ার ও পেপারফ্লাই ইতোমধ্যে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে তাদের চার্জ ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে।

পেপারফ্লাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহরিয়ার হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়েছে যার জন্য আমাদের ডেলিভারি সার্ভিসের দাম বাড়াতে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় সমস্ত অনলাইন ও অফলাইন ভিত্তিক লজিস্টিক ও ডেলিভারি সংস্থাগুলি বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের চার্জ বাড়িয়েছে।

পেপারফ্লাইয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, ডেলিভারি ফি সমন্বয় না করা হলে ব্যবসার টেকসই পরিচালনা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

শিল্পের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি নিম্ন আয়ের অংশের পাশাপাশি ঢাকার বাইরে বসবাসকারী জনসংখ্যার চাহিদাকে প্রভাবিত করবে, কারণ তারা তাদের অনলাইন কেনাকাটা কমাবে।

তারা আরও বলছেন, বর্ধিত পরিষেবার মূল্য গ্রাহকদের উপর আরোপ করা হবে। এর অর্থ হল ডেলিভারি ফি সহ পূর্বে ১০০ টাকা মূল্যের পণ্যের মূল্য এখন প্রায় ১৪০ টাকা হবে। যেখানে ডকুমেন্ট ডেলিভারির পূর্বে ২৫ টাকা মূল্যের দাম হবে প্রায় ৩৫-৪০ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি দাম সামঞ্জস্য না করা হয়, তাহলে এই সেক্টরের ব্যবসাগুলো ছয় মাস পরে কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে না।

স্থানীয় রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও তার নিবন্ধিত টু-হুইলার চালানোর জন্য গড়ে ১৬-১৮% ভাড়া বাড়িয়েছে, যখন উবারও এর দাম বাড়াচ্ছে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) একজন কর্মকর্তার মতে, কিছু দুর্বৃত্তের কেলেঙ্কারীতে হারানো ভরসা উল্লেখযোগ্যভাবে পুনরুদ্ধার হলেও ভোক্তা ও ব্যবসার উপর অতিরিক্ত বোঝা এই সেক্টরকে ফের পিছিয়ে দেবে।

তিনি বলেন, এটি সরাসরি অনলাইন শপিং শিল্পকে প্রভাবিত করবে ও অতিরিক্ত বোঝা তাদের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম করবে। এজন্যে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির শিকার হবে।

সরকার সম্প্রতি ডিজেল এবং কেরোসিনের দাম ৪২.৫% বৃদ্ধি করেছে যেখানে পেট্রোল এবং অকটেনের দাম যথাক্রমে ৫১.১% এবং ৫১.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর একদিন পরে কর্তৃপক্ষ বাসের ভাড়া ২২% পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

তবে এসএমই পার্সেল অ্যাগ্রিগেটর ডেলিভারি টাইগার গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তারা এখনও দাম বৃদ্ধি করেনি ও আগামী কয়েক মাসের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

সিইও একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, এগ্রিগেটর মূলত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ডেলিভারি করে। তাই হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধি তাদের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ডেলিভারিতে সাইকেল ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, দেশের ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাত এখনও ছোট। সরকার পার্সেল ডেলিভারির উপর ১৫% ভ্যাট ও অনলাইন পণ্য বিক্রয়ের উপর ৫% ভ্যাট চার্জ করে। ই-কমার্স সংস্থাগুলোর কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে সহায়তায় এটি স্থগিত বা কমানো দরকার।

   

About

Popular Links

x