Monday, September 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। এটি কেবল বই পড়ার জায়গা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি অপরিহার্য মাধ্যম। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অন্তহীন সমস্যায় সে কাজ করতে পারছেনা। 

২০১৪ সালে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি যাত্রা শুরু  করে। বর্তমানে এখানে একাডেমিক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, গল্প-উপন্যাসসহ মোট ৩৬ হাজার ১৫২টি বই রয়েছে। 

এছাড়া লাইব্রেরিতে রয়েছে ১ হাজার ৫০০টি প্রিন্ট জার্নাল এবং ৫০০টি ম্যাগাজিন। কোর্সভিত্তিক ও বিশেষায়িত বইয়ের রয়েছে তীব্র সংকট। নেই আন্তর্জাতিক জার্নাল, ই-বুক অ্যাপস কিংবা পর্যাপ্ত ডিসপ্লে সিস্টেম। শিক্ষকদের জন্য এখনো চালু হয়নি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম সফটওয়্যার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য কম্পিউটার নেই।  এসব কারণে লাইব্রেরিটি এখনো সে অর্থে গবেষণা এবং জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র পরিনত হতে পারেনি। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, লাইব্রেরীর এসি, ফ্যান নষ্ট। বই পড়ার ডেক্স সংখ্যায় কম।  চেয়ারের মাঝখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই চেয়ার সরিয়ে উঠা-বসা করতে হয়।   একজন উঠলে পুরো কক্ষে শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় বই, প্রযুক্তিগত সুবিধা  এ লাইব্রেরিতে অনুপস্থিত। 

শিক্ষার্থীরা দ্রুত দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ, জব কর্নার স্থাপন এবং লাইব্রেরির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯ হাজার ৩২০ শিক্ষার্থী পড়শোনা করছে। কিন্তু লাইব্রেরিতে আসন রয়েছে মাত্র ২০০। সে হিসাবে শিক্ষার্থী ও আসনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৫০। পর্যাপ্ত আসন নেই। এছাড়া, ধীরগতির ইন্টারনেট, প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট রয়েছে। আশপাশের শব্দদূষণের কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।’’  

শিক্ষার্থী তামিন ইকবাল বলেন, “লাইব্রেরি  উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেই সে অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ লাইব্রেরীটি অবদান রাখতে পারছে না।  শিক্ষার্থী বাড়লেও আসন বাড়েনি।”

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান নাসিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের লাইব্রেরী  ভবন দ্বিতলা। এটি ৪ তলা হওয়ার কথা। তাই জায়গা ও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। অটোমেশন ব্যবস্থা নেই। ম্যানুয়ালে কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকছে। তাই সপ্তাহে ১৩টি শিফট পরিচালনায় কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। তারপরও আমরা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। নতুন উপাচার্য লাইব্রেরী অধুনিকায়ন ও কলেবর বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি লাইব্রেরীর সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, “আমি গত মাসের ২৫ তারিখে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। লাইব্রেরীর সমস্যার কথা শুনেছি। পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন বিষয়ের রেফারেন্স বুক, আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য এ লাইব্রেরিতে অন্তুভূক্ত করে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহন করব। যাতে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবদান রাখতে পারেন। বিসিএস সহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় যাতে শিক্ষার্থীরা বেশি কোয়ালিফাই করতে পারে, সেই আদলে লাইব্রেরীকে গড়ে তোলা হবে।” 
 

   

About

Popular Links

x