খাদ্য আমদানি কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদিত শস্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করায় গুরুত্বারোপ করেছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।
প্রধানমন্ত্রী দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান উপ প্রেস সচিব।
উপ প্রেস সচিব বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে।”
সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন বিকাল ৩টার পর ওই বৈঠকে যেতে তিনি ভবন-১ এ নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান।
বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
উপ প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা বলেন, ‘‘মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। বৈঠকে পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরা হয়। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রমও চলমান থাকার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
উপ প্রেস সচিব বলেন, কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচ ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচ ব্যয় ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
বৈঠকে কৃষি কার্ড কর্মসূচির অবস্থা তুলে ধরা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়।
বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী আমির উর রশিদ ও কৃষি সচিব সেলিম খানসহ মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা অংশ নেন।



