প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায়, বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন - সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)।
এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে গত ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।
পরবর্তীতে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ মারা যান। প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করে মামলা হিসেবে তদন্তের আবেদন করেন।
এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর, তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।
সিআইডি ১৯৯৭ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মত দিলেও বাদীপক্ষ সেই প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিভিশন আবেদন করে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সালমান শাহ'র মৃত্যুর সময় তার শরীরে আঘাতের বিভিন্ন চিহ্ন ছিল এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে, তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।



