শরিফুল রাজের ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে পড়া অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল, তানজিন তিশা এবং নাজিফা তুষির সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তাল। ভিডিও এবং ছবিতে কিছুটা “অস্বাভাবিক” অবস্থায় দেখা গেছে তিন অভিনেত্রীকে। কথাবার্তায়ও ছিল অস্বাভাবিকতা। যদিও কিছুক্ষণ পরই সেগুলো মুছে দেওয়া হয়।
ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল, তানজিন তিশা এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা শরিফুল রাজ। তিশা এবং রাজ কিছু না বললেও নাম প্রকাশ করা ছাড়াই ছবি ও ভিডিওগুলো রাজের স্ত্রী পরীমণি প্রকাশ করেছেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সুনেরাহ। জবাবে পরীমণিও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের দায় অস্বীকার করে জানান, রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে তিনি সুনেরাহর নামে মামলা করবেন।
গোটা বিষয়ে পরীমণির অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তসলিমা নাসরিন। নানা বিষয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় থাকা এ নির্বাসিত লেখিকা বলেছেন, অধিকাংশ মেয়ের মতো পরীমণিও পুরুষের দোষ না দেখেই আরেক নারীর দিকে আঙুল তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন বলেন, “বাংলাদেশের সিনেমার নায়িকা পরীমণিকে আমি ইনোসেন্ট এবং ইন্টেলিজেন্ট বলে মনে করি। স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি বেশ কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, রাজ তার গায়ে হাত তোলেন এবং অতিষ্ট হয়ে তিনি রাজকে ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছুদিন পর অবশ্য পরীমণি আপস করেছেন। আবার সেই স্বামীর সঙ্গেই বাস করতে শুরু করেছেন।”
রাজের ফেসবুক আইডি থেকে তিন অভিনেত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে নির্বাসিত লেখিকা বলেন, “রাজের নায়িকা-বান্ধবীদের সঙ্গে কিছু ভিডিও রাজের ফেসবুক থেকে ভাইরাল হওয়ার পর পরীমণির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে অনেকে। কিন্তু পরীমণি রাখঢাক না করে এবার জানিয়ে দিয়েছেন যে রাজ তার সঙ্গে গত দশদিন যাবত থাকছেন না, অর্থাৎ খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজের ফোন পরীমণির নাগালের বাইরে।”
তিনি আরও বলেন, “পরীমণি আরেকটি তথ্য ফাঁস করেছেন। তা হলো, রাজ এখন সুনেরাহ নামের এক নায়িকার সঙ্গে থাকছেন। কী হবে না হবে তা না ভেবে পরীমণি অপ্রিয় কিছু সত্য বলে ফেলেন। এ কারণেই তাকে আমার ভিড়ের বাইরের মানুষ বলে মনে হয়। অনেকটাই আলাদা।”
রাজের সঙ্গে পরীমণির সাংসারিক জীবনের টানাপড়েনের দায় সুনেরাহর ওপর চাপানো নিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, “পরীমণি বলেছেন রাজকে তার জীবন থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার দায় সম্পূর্ণই সুনেহরার। তিনি সুনেরাহকে ভৎসর্না করলেন। আমি অবাক হলাম, রাজ যদি তার স্ত্রীকে ঠকিয়ে থাকেন, স্ত্রীকে চিট করে অন্য কারও সঙ্গে জীবনযাপন করেন, তাহলে দোষ রাজের না হয়ে অন্যের হবে কেন? পরীমণি রাজকে দোষ দিলেন না। তিনি দোষ দিলেন সুনেরাহকে, মেয়েটিকে।”
সবশেষে পরীমণির ওপর হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “অধিকাংশ মেয়েই পুরুষের দোষ দেখতে পান না। সমস্ত অঘটনের মূলে তারা মনে করেন, আছে মেয়েরাই। পরীমণিও তা-ই করলেন। ভিড়ে মিশে গেলেন।”



