অক্ষয় কুমারের সর্বশেষ কয়েকটি সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে জনপ্রিয় এই বলিউড অভিনেতার বেরিয়ে আসার তুরূপের তাস হিসেবে ধরা হচ্ছিল তার পরবর্তী সিনেমা “ও মাই গড ২” (ওএমজি ২)। যদিও মুক্তির আগেই সিনেমাটিকে সেন্সর বোর্ডের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য “ও মাই গড ২” সিনেমাটি সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের কাছ থেকে (সিবিএফসি) মুক্তির অনুমতি পেয়েছে। তবে তার আগে সিনেমাটির অসংখ্য দৃশ্যে ছুরি-কাঁচি চালিয়েছে সেন্সর বোর্ড। দৃশ্যগুলোতে পরিবর্তন আনার পর সিনেমাটিকে “এ” সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই এ সিনেমাটি দেখতে পারবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপযুক্ত নাগা সন্ন্যাসীদের দৃশ্য দিয়ে সিনেমাটিতে ফ্রন্টাল নুডিটি বা বিবস্ত্র দৃশ্যগুলো প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। তালিকায় আছে সৃষ্টিকর্তাকে (ভগবান) মদ উৎসর্গের সংলাপেও। সিনেমা থেকে একটি কন্ডমের বিজ্ঞাপনের পোস্টারও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এমনকি ইঁদুরের বিষ লেখা একটা বোতল থেকে ইঁদুর কথাটাও মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়া, আদালতে বিচারকের সেলফি নেওয়া, উজ্জয়ন নামক শহরের উল্লেখের বিষয়টিও আর সিনেমায় রাখা হয়নি। সব মিলিয়ে “ও মাই গড ২” সিনেমাটির অন্তত ২০টিরও বেশি দৃশ্যে কাটছাঁট করা হয়েছে।
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই “ও মাই গড ২” সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। জুন মাসে মুক্তি পাওয়া “আদিপুরুষ” সিনেমার পরিণতি থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়েই বাড়তি সতর্কতার পথে হেঁটেছে সেন্সর বোর্ড। হিন্দু পুরাণ রামায়ণ অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই সংলাপ, পোশাক এবং হাস্যকর ভিএফএক্সের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে। এমনকি ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগেও সিনেমাটির বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ হয়েছে।
তীব্র সমালোচনার মুখে কিছু সংলাপ সংশোধনের পর পুনরায় সিনেমাটি মুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ক্রমাগত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর “আদিপুরুষ” সিনেমার সংলাপ লেখার দায়িত্বে থাকা মনোজ মুনতাশির নিঃশর্ত ক্ষমা চান। সেই সঙ্গে আদিপুরুষ যে মানুষের ভাবানুভূতিতে আঘাত হেনেছে, সেটিও স্বীকার করে নেন তিনি।
“আদিপুরুষ” সিনেমার পরিণতির পর সেন্সর বোর্ড ফের এমন কোনোকিছুর পুনরাবৃত্তি দেখতে নারাজ। তাই সব দিক ভেবেচিন্তে, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার বিশ্লেষণ করেই “ও মাই গড ২” সিনেমাকে ছাড়পত্র দিয়েছে সিবিএফসি।
মহাকালেশ্বর মন্দিরের পুরোহিত মহেশ শর্মা মন্দিরের দৃশ্যগুলো সিনেমা থেকে মুছে ফেলার দাবি জানানোর পরই “ও মাই গড ২”কে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দাবি না মানলে সিনেমাটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন বলেও ঘোষণা করে দেন ওই পুরোহিত।
মহেশ শর্মা ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, “‘ওহ মাই গড ২’ সিনেমাটিকে সেন্সর বোর্ড মুক্তির ছাড়পত্র দিয়েছে। এই ছাড়পত্রটি প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়বস্তু রয়েছে, এমন সিনেমার জন্য সংরক্ষিত। মহাকাল মন্দিরে ধারণ করা কিছু দৃশ্য সরানোর দাবি করছি কারণ এটি দর্শকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। আমাদের দাবি মানলে আমরা সারাদেশে বিক্ষোভ করব।”
“ও মাই গড ২” সিনেমায় অক্ষয় কুমারকে হিন্দু দেবতা শিবের চরিত্রে দেখা যাবে। গত ১১ জুলাই প্রকাশ্যে আসা সিনেমাটির টিজারে অক্ষয়ের সেই লুকও দেখা গেছে। হিন্দু দেব-দেবতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সেন্সর বোর্ড ছিল অতিরিক্ত সতর্ক। তাই মুক্তির অল্প কিছুদিন বাকি থাকলেও বিতর্ক এড়াতে সিনেমাটির ট্রেইলার এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
“ও মাই গড ২” সিনেমাটি মূলত ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “ওএমজি- ও মাই গড” ছবির সিকুয়েল। ওই সিনেমায় অক্ষয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরিত্রে অভিনয় করেন। সেখানে অক্ষয়ের পাশাপাশি দেখা গেছিল পরেশ রাওয়াল, মিঠুন চক্রবর্তীদের মতো অভিনেতাকেও। দর্শক জনপ্রিয়তার পাওয়ার পাশাপাশি সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর “ওএমজি- ও মাই গড” ছবির সিকুয়েল “ও মাই গড ২” নির্মাণ করছেন অমিত রাই। অক্ষয় ছাড়াও এতে আরও অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, ইয়ামি গৌতম, অরুণ গোভিল প্রমুখ। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে মুক্তির ছাড়পত্র পাওয়া নিয়ে জটিলতায় ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আগামী ১১ আগস্টেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।



