শরৎকালের চিরায়ত রূপের প্রতীক হচ্ছে কাশফুল। শরতের নীল আকাশ, শুভ্র সাদা মেঘের ভেলা আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন এক অপূর্ব রূপ ধারণ করে।
ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি মেটাতে এবং প্রকৃতির কাছাকাছি এক টুকরো প্রশান্তি পেতে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার আশপাশের সেরা কাশবনগুলোতে।

উত্তরা দিয়াবাড়ি
ঢাকার ভেতরের বাসিন্দাদের জন্য কাশফুল দেখার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় গন্তব্য হলো উত্তরা দিয়াবাড়ি। এখানকার খোলা আকাশ, প্রশস্থ রাস্তা, লেক এবং দিগন্ত বিস্তৃত কাশের সৌন্দর্য বিকেলের রোদে আরও মনোরম হয়ে ওঠে।
মেট্রোরেলে সরাসরি উত্তরা উত্তর স্টেশনে নেমে পড়ুন। স্টেশন থেকে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা হেঁটেও সহজে দিয়াবাড়ির বিভিন্ন কাশবনে যাওয়া যায়।
রামপুরা আফতাবনগর
খুব কম সময়ে শহরের মধ্যে থেকে কাশফুল দেখতে চাইলে আফতাবনগর হতে পারে এক বিকেলের চমৎকার গন্তব্য। রামপুরা সেতু পার হয়ে আফতাবনগরের ভেতরের দিকে গেলে খোলা মাঠে ও খালের পাড়ে সাদা কাশের দেখা মিলবে।
রামপুরা ব্রিজ বা জহুরুল ইসলাম সিটি গেট থেকে রিকশা বা অটোরিকশা নিয়ে আফতাবনগরের ভেতরের খালি জায়গাগুলোর দিকে সহজে যাওয়া যায়।
পূর্বাচল ৩০০ ফুট ও লেকপাড়
শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে দারুণ এক স্থান। এক্সপ্রেসওয়ের দুপাশে, বিভিন্ন ব্লকের খোলা মাঠে এবং লেকের পাড়ে শরতে প্রচুর কাশফুল ফোটে।
কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফুট সড়ক ধরে সিএনজি, অটো কিংবা নিজস্ব মোটরসাইকেল ও গাড়িতে পূর্বাচল যাওয়া যায়।
বিরুলিয়া ও তুরাগ নদী
কাশফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে যদি নদীর বুকে নৌকা ভ্রমণের আনন্দ যোগ করতে চান, তবে বিরুলিয়া চমৎকার জায়গা। তুরাগ নদীর তীরে হওয়ায় এখানে নৌকায় ঘুরে ঘুরে নদীর পাড়ে ফুটে থাকা কাশফুল উপভোগ করা যায়।
মিরপুর ১, আশুলিয়া বা আমিনবাজার হয়ে সহজে বিরুলিয়া যাওয়া যায়। সেখান থেকে স্থানীয় রিকশা বা অটোরিকশায় নদীর ঘাটে পৌঁছে নৌকা ভাড়া করতে পারবেন।
কেরানীগঞ্জের সারিঘাট
ঢাকার খুব কাছে হলেও শহরের ইট-পাথরের ব্যস্ততার বাইরে এক ভিন্ন পরিবেশ মিলবে কেরানীগঞ্জের সারিঘাটে। নদী, সবুজ প্রান্তর আর বিশাল কাশের মাঠ মিলে এখানে শরতের এক অপূর্ব আবহাওয়া তৈরি হয়।
বাবুবাজার বা পোস্তগোলা সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া লিঙ্ক রোড ধরে সারিঘাটে পৌঁছানো যায়।
মোহাম্মদপুর বসিলা ও ওয়াশপুর
মোহাম্মদপুরের বসিলা সেতুর ওপারে ওয়াশপুর ও ঘাটারচরের দিকে নদীর তীরবর্তী খোলা জমিতে প্রচুর কাশফুল ফুটে থাকে। দূর-দূরান্তে না গিয়ে যারা অল্প সময়ে একটু ঘুরে আসতে চান, তাদের জন্য এই রুটটি ভালো বিকল্প।
মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বসিলা সেতু পার হয়ে রিকশা বা অটোরিকশায় ওয়াশপুর কিংবা নদী তীরবর্তী স্থানে যেতে পারবেন।
আশুলিয়া ও নদী তীর
তুরাগ নদীর তীর, জলাশয় এবং আশুলিয়ার বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তরে প্রতি বছরই কাশফুলের সমারোহ দেখা যায়। শহরের খুব বেশি বাইরে না গিয়েই নদীর হাওয়া ও কাশবন উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে এখানে।
ঢাকা থেকে সাভার বা আশুলিয়াগামী বাসে উঠে বেড়িবাঁধ বা আশুলিয়া নেমে অটোরিকশায় স্থানীয় কাশবনের দিকে যাওয়া যায়।



