দেশের ৫২তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪তম বাজেট বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটটি চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ১২% বেশি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন, নির্বাচনী বছরের চ্যালেঞ্জ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বাজেট ঘাটতির অর্থায়ন, উন্নয়ন কর্মসূচি চলমান রাখাসহ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মতো নানামুখী চাপের মধ্যে এই “স্মার্ট ইকোনমির” বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। গত দেড় দশকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করে দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় স্মার্ট বাংলাদেশ ৪টি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি।
বাজেট কেন ব্রিফকেসে
বিশ্বের সব দেশের বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রীরা ব্রিফকেসে করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বহন করেন। বাজেট বক্তৃতায় ব্রিফকেসে থাকা লিখিত নথি থেকে তা পাঠ করেন তারা। ফলে ব্রিফকেস নিয়ে একধরনের কৌতূহল জন্মায় অনেকের মনে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান তার “বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি” বইয়ে ব্রিফকেসের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার এই বইয়ের পাঠ থেকে ব্রিফকেস কৌতূহলের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।
আকবর আলি খান লিখেছেন, শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি অনেক বড় হয়ে যায়। বাজেটবিষয়ক প্রস্তাবগুলো শুধু একটা মানিব্যাগে সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছিল না, সে জন্য মানিব্যাগের জায়গায় আসে ব্রিফকেস।
বইটিতে ব্রিফকেস ব্যবহারের আরেকটি কারণ উল্লেখ করা হয়। সেটি হলো, বাজেটে কোন কর বাড়বে বা কোন কর কমবে, তার গোপনীয়তা বজায় রাখা অপরিহার্য। ব্রিফকেসের ভেতর থাকা বাজেটের তথ্য জেনে ব্যবসায়ীরা রাতারাতি তার প্রয়োগ করতে পারেন। তাই সংগত কারণেই সংসদে বাজেট পেশের আগে প্রস্তাবগুলো গোপন রাখা চাই। যে অর্থমন্ত্রী বাজেটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারেন না, তার পক্ষে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।
জানা যায়, বাজেট ব্রিফকেসের এই রীতি শুরু হয় ১৮ শতক থেকে। প্রথম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে। বাজেটপ্রধানকে ব্রিফকেস খুলে বাজেট পেশ করতে বলা হতো। ১৮৬০ সালে ব্রিটেনের বাজেটপ্রধান উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন লাল একটি স্যুটকেসে করে বাজেটসংক্রান্ত নথি নিয়ে আসেন। সেই স্যুটকেসের ওপর স্বর্ণ দিয়ে রানির মুখের আদলের ছাপ দেওয়া ছিল। ওই একই ব্যাগ বহু সরকারের আমলেই ব্যবহার করা হয়।
প্রথা অনুযায়ী “লাল ব্রিফকেস” হাতে বাজেট পেশ করতে সংসদে ঢোকেন অর্থ বিভাগের প্রধান। তবে এই রহস্যময় ব্রিফকেসের রং সব সময় লাল ছিল না, অনেক সময়ই তা বদলেছে। তবে রং যা-ই হোক না কেন, এই ব্রিফকেসকে বাজেটের প্রতীক ধরা হয়।



