Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টেপ দিয়ে দেয়ালে আটকে রাখা কলা, চিত্রকর্মটি বিক্রি হলো ৭৫ কোটিতে!

নিউ ইয়র্কের সদেবিজ নিলাম প্রদর্শিত দেয়ালে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকানো চিত্রকর্মটির নাম ‘কমেডিয়ান’

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৫৮ পিএম

জনপ্রিয়তার পারদ চড়াতে চড়াতে তা এবার আকাশে তুললেন প্রখ্যাত ইতালীয় শিল্পী মাউরিৎসিও কাত্তেলান। ২০১৯ সালে শিল্পাঙ্গনে একটি কলা নিয়ে এসে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি, এবার সেই ‘‘কলা শিল্প’’ বিক্রি হলো আকাশছোঁয়া মূল্যে।

শিল্প হলেও তা আসলে একটি কলাই; হ্যাঁ, যে কলা আমরা খেয়ে থাকি। কিন্তু তাই বলে একটি কলা ৬২ লাখ ডলারে বিক্রি হবে? অথচ হয়েছে তা-ই।

স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সদেবিজ-এর নিলামে কলার ওই শিল্পকর্মটি বিক্রি হয়েছে ৬.২ মিলিয়ন ডলারে। নিলাম শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে সেটি কিনে নেন চীনা বংশোদ্ভূত ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা জাস্টিন সান।

এই শিল্পকর্মটি মূলত ২০১৯ সালের কনসেপ্ট আর্টওয়ার্ক। ‘‘কমেডিয়ান’’ নামের এই শিল্পের স্রষ্টা মাউরিৎসিও কাত্তেলান। এটি মূলত ডাক্ট টেপ দিয়ে দেয়ালে আটকে রাখা একটি কলা, শিল্পীর নির্দেশনা অনুযায়ী যা প্রতিস্থাপনযোগ্য।

সে বছর আর্ট বাসেল মায়ামি বিচ প্রদর্শনীতে প্রথম ‘‘কমেডিয়ান’’-এর প্রদর্শনী হয়। এরপর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে ওঠে আসেন কাত্তেলান ও তার এই শিল্পকর্ম।

শিল্পপ্রেমীদের কাছে শিল্পের চিরাচরিত মাপকাঠি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয় ‘‘কমেডিয়ান’’। এর পক্ষে-বিপক্ষে ওঠে আলোচনার ঝড়। প্রথম কলাটি শত শত দর্শকের সামনে দেয়াল থেকে তুলে খেয়ে ফেলেন পারফর্ম্যান্স আর্টিস্ট ডেভিড ডাটুনা। এরপর তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

ডাটুনা অবশ্য পরে দাবি করেন, কলা খাওয়ার কাজটি তার নিজস্ব আর্টিস্টিক পারফরম্যান্স ছিল। কোনো ধরনের উগ্রতা প্রদর্শনের ইচ্ছায় তিনি কাজটি করেননি।

পরে ফের আরেকটি কলা সেখানে সাঁটানো হলে সেটি দেখতে এত লোকের ভীড় হয় যে একপর্যায়ে মায়ামির প্রদর্শনী থেকে কমেডিয়ান সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তার আগেই সেখানে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে এর তিনটি সংস্করণ বিক্রি হয়।

পাঁচ বছর পর ফের কমেডিয়ানকে সামনে নিয়ে আসেন শিল্পী কাত্তেলান। এবার ধারণা করা হয়েছিল, শিল্পকর্মটির দাম অন্তত এক-দেড় লাখ ডলার উঠবে। কিন্তু নিলাম সঞ্চালকের চক্ষু ছানাবড়া করে দিয়ে তা বিক্রি হয় ৬.২ মিলিয়ন ডলারে, বাংলাদেশি মূদ্রায় যা প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

এদিন ৮ লাখ ডলার থেকে নিলাম শুরু হয়। এক মিনিটের মধ্যেই তা ২ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, এরপর ৩, তারপর ৪ মিলিয়ন।

নিলাম সঞ্চালক অলিভার বার্কার এ সময় মজা করে বলেন, ‘‘কোনোভাবেই যেন ছুটে না যায়! এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।’’

এরপর হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘‘এও বলতে হবে, এমনটি কখনও ভাবিনি আমি। একটি কলার জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার!’’

তবে শেষমেষ ৫.২ মিলিয়ন ডলারে কলাটি কিনে নেন জাস্টিন সান। আর নিলামঘরের ১ মিলিয়ন ফিসহ তাকে পরিশোধ করতে হয়েছে মোট ৬.২ মিলিয়ন ডলার।

নিজের অনভূতি জানাতে গিয়ে সান বলেন, ‘‘এটি আসলে এমন একটি সাংস্কৃতিক ঘটনাকে উপস্থাপন করে যা শিল্প, মিম ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।’’

কলাটি যে বেশিদিন টিকবে না, সেকথাও স্বীকার করে হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘‘অনন্য এক শৈল্পিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে কলাটি আমি খেয়ে ফেলব। এর মাধ্যমে শিল্পের ইতিহাস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতি উভয় ক্ষেত্রেই আমি এটিকে সম্মানের আসনে বসাব।’’

শিল্পকর্ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকেন জাস্টিন সান। আলবার্তো জিয়াকমেত্তির ১৯৪৭ সালের একটি ভাস্কর্য তার সংগ্রহে রয়েছে। ২০২১ সালে ৭৮.৪ মিলিয়ন ডলারে তিনি ভাস্কর্যটি কেনেন।

   

About

Popular Links

x