এই গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়। ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা যেন জেঁকে বসে। এছাড়াও দেহে নিয়মিত পানি সরবরাহ না থাকলে নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ সময় প্রচুর পানি ও খনিজসমৃদ্ধ পানীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে এ সময় অনেকেই বিভিন্ন শরবতের ওপর ভরসা করেন। এছাড়া পানির চাহিদা মেটাতেও শরবতের জুড়ি নেই। রুহ আফজা, তরমুজ, পুদিনা পাতা, লেবুসহ নানা কিছু ব্যবহৃত হয় শরবত বানাতে। এসব শরবতেই যদি কিছু বীজ ও উপাদান মিশিয়ে নেন, তাহলে বাড়তি উপকার পেতে পারেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক শরবতে কোন কোন উপাদান মিশিয়ে এর গুণ বাড়াতে পারেন।
তোকমা
এই গরমে অনেকেই তোকমার শরবত খেতে পছন্দ করেন। এতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। স্মুদি কিংবা শরবতে ভেজানো তোকমা মিশিয়ে দিতে পারেন সহজেই। বীজটি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। তোকমা অনেকটা চিয়া বীজের মতোই দেখতে, পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ছোট, কালো এবং থকথকে হয়ে যায় এটি। খাওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে এবং সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এটি ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যায়। তোকমায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে। ফাইবারের অনেক স্বাস্থ্য সুবিধার মধ্যে একটি হলো এটি কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম বা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এটি সহায়ক।
চিয়া সিড
চিয়া সিডকে বলা হয়ে থাকে সুপার ফুড। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার উৎস হলো এই বীজ। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজও পাওয়া যায় এই বীজে। খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ভিজিয়ে রাখতে হবে চিয়া সিড। চিয়া বীজ প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে, ফলে চিয়া সিডের শরবত খেলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হয়। নিয়মিত চিয়া বীজ খেলে হজম ভালো হয়, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সর্বোপরি ভালো থাকে হার্টের স্বাস্থ্য। রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে ক্ষুদ্র এই বীজ। উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে শরীরের প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করতে পারে চিয়া বীজ। ফলে ডায়াবেটিস, ক্যানসার এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমে।
ইসবগুলের ভুসি
যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তারা তো বটেই, অন্যরাও শরবতের সঙ্গে খেতে পারেন ইসবগুলের ভুসি। ইসবগুল পাকস্থলী পরিষ্কার করে, হজমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এছাড়াও ইসবগুল পাকস্থলী ও খাদ্যনালির ভেতরে আলাদা একটি পর্দা তৈরি করে, যা অ্যাসিড থেকে খাদ্যনালীর পর্দাকে রক্ষা করে বুক জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সহায়ক এটি। তবে ইসুবগুল দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রেখে খাবেন না। শরবতের সঙ্গে মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলুন।
সাবুদানা
এই গরমে খেতে পারেন সাবুদানার শরবত। প্রথমেই এক কাপ সাবুদানা মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিটে সেদ্ধ করে নিতে হবে। সাবুদানাগুলো স্বচ্ছ দেখা গেলে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। পরে আবার ঠান্ডা পানি ঢেলে ধুয়ে নিন। পছন্দের যেকোনো শরবতে মিশিয়ে নিন এই সাবুদানা। প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় সাবুদানায়। ফলে এটি খেলে অস্টিওপোরোসিস ও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে। শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি হজমশক্তি বাড়াতেও এটি খুবই কার্যকরী।
তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে ও এনডিটিভি



ডায়াবিটিস রোগীরা হার্টের যত্ন নেবেন যেভাবে
শরীরে পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না বুঝবেন যেভাবে