Tuesday, October 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেহ সংক্রমিত হলেও জীবাণু সহজে মস্তিষ্কে ঢুকতে পারে না, কারণ কী?

প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে জীবাণু মস্তিষ্কে অনুপ্রবেশ করতে পারে না

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

মানুষের দেহ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের সংক্রমণের মুখোমুখি হয়। রক্তের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর পেছনে কাজ করে মস্তিষ্কের এক বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার নাম ব্লাড ব্রেইন ব্যারিয়ার।

ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে। তবু প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে জীবাণু মস্তিষ্কে অনুপ্রবেশ করতে পারে না। এর কারণ মস্তিষ্কের রক্তনালীর গঠন, যা শরীরের অন্যান্য অংশের রক্তনালী থেকে কিছুটা আলাদা।

মস্তিষ্কের রক্তনালীর গায়ে থাকে এক অদৃশ্য দেয়াল। এটি চোখে দেখা যায় এমন কোনো দেয়াল নয়, বরং এন্ডোথেলিয়াল কোষের একটি ঘন স্তর। শরীরের অন্য অংশের এন্ডোথেলিয়াল কোষের মাঝে ছোট ছোট ফাঁক থাকলেও মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে সেই ফাঁকটুকুও থাকে না। ফলে ক্ষতিকর কিছু সহজে ভেতরে ঢুকতে পারে না।

এই ব্যারিয়ার বেছে বেছে নির্দিষ্ট উপাদানকে ভেতরে ঢুকতে দেয়। মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও হরমোন এর মধ্য দিয়ে অনায়াসে চলাচল করতে পারে। এমনকি ক্যাফেইন ও অ্যালকোহলও এটি পেরিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, টক্সিন ও বেশির ভাগ ওষুধ ভেতরে ঢুকতে পারে না। দুর্গের প্রহরীর মতোই মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখে এই ব্যারিয়ার।

তবে এই সুরক্ষাব্যবস্থার একটি নেতিবাচক দিকও আছে। আলঝাইমার, পারকিনসন বা ব্রেইন টিউমারের মতো রোগের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই ব্যারিয়ার, কারণ ওষুধ মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে না। তবে ন্যানোটেকনোলজি ও কেমিক্যাল ট্রান্সপোর্টার ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

   

About

Popular Links

x