বিশ্বব্যাপী দয়া ও সহানুভূতির প্রতীক হয়ে ওঠা মার্কিন বিচারক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও আর নেই। অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৮৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
বুধবার (২০ আগস্ট) তার অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়।
রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স মিউনিসিপ্যাল কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারক "Caught in Providence" নামে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন। আদালতে বিচারের সময় তার দয়া, সহানুভূতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ক্যাপ্রিওর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে।
তার বিচার কার্যক্রমের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি ছিলেন এমন একজন বিচারক, যিনি মানুষের গল্প শুনতেন, তাদের চোখের জল বুঝতেন এবং প্রয়োজনে জরিমানা মওকুফ করতেন। শিশুদের সামনে এনে বিচার চালানো থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো- সবখানেই ফুটে উঠেছে তার মানবিকতা।
ক্যাপ্রিওর আদালত হয়ে উঠেছিল সহানুভূতির প্রতিচ্ছবি। একবার এক মায়ের সন্তান হারানোর কাহিনি শুনে তিনি তার সব জরিমানা বাতিল করে দেন। আবার এক ঘটনায় মাত্র ঘণ্টায় ৩ ডলার আয় করা এক বারটেন্ডারের জরিমানা মওকুফ করে বলেন- "রেস্তোরাঁয় খেয়ে কেউ যেন টাকা না দিয়ে পালিয়ে না যায়, এতে খেটে খাওয়া মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।" এমন অসংখ্য ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি বিচার প্রক্রিয়ার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
বিচারক হিসেবে তার মূল বার্তাই ছিল- ন্যায়বিচার মানেই কেবল আইন প্রয়োগ নয়, তা যেন হয় দয়া ও সহানুভূতির সঙ্গে।
২০২৩ সালে চার দশকের বিচারক জীবন শেষে অবসরে যান ক্যাপ্রিও। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে হাসপাতাল থেকে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন।
তার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে যারা সহানুভূতিশীল সমাজ গড়তে চায়, তাদের মনে নেমে এসেছে গভীর শোক। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "তার উষ্ণতা, রসবোধ ও সহানুভূতির স্পর্শ চিরকাল আমাদের মনে থাকবে।"
তার জীবনী থেকে জানা যায়, প্রভিডেন্সের ফেডারেল হিল এলাকার একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ক্যাপ্রিওর। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।



