Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে 

আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করার কয়েক দিনের মাথায় জার্মানি থেকে ৫,০০০ সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। 

শুক্রবার (১ মে) মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই লিখেছেন, জার্মানি থেকে সেনা কমানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। 

বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিপুল সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত, দেশটি জুড়ে বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৩৬,০০০ বেশি সক্রিয় সেনা মোতায়েন ছিল।

গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) চ্যান্সেলর মের্ৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেছিলেন, 'আমেরিকানদের স্পষ্টত কোনো সুনির্দিষ্ট রণকৌশল নেই।'

তিনি আরও বলেন, “ইরানিরা আলোচনায় না বসার ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ। তারা মার্কিনিদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত আসার সুযোগ দেয় এবং কোনো ফলাফল ছাড়াই তাদের খালি হাতে ফেরত পাঠায়।” ইরানি নেতৃত্বের কাছে পুরো মার্কিন জাতি 'লজ্জিত' হচ্ছে বলে মনে করেন মের্ৎসে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে বলেন, “মের্ৎস সম্ভবত মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক আছে এবং তিনি নিজে কী বলছেন তা তিনি নিজেই জানেন না।” 

ট্রাম্প জার্মানির অর্থনীতির সমালোচনা করে আরও লেখেন, 'এ কারণেই জার্মানি অর্থনৈতিক ও অন্যান্য দিক থেকে এত খারাপ করছে।'  

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই পোস্ট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মের্ৎস বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের মতোই ভালো আছে।' তবে জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

উল্লেখ্য, গত দুই মাস ধরে ট্রাম্প বারবার ৩২ সদস্যের ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তবে ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, জোটের মূল নীতিমালায় কোনো দেশের সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করার কোনো বিধান নেই।

এছাড়া ট্রাম্প এর আগেও জার্মানিতে সেনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে সেগুলো কার্যকর হয়নি। একমাত্র জাপানে এর চেয়ে বেশি মার্কিন সেনা উপস্থিতি রয়েছে।

২০২০ সালে জার্মানি থেকে ১২,০০০ সেনা সরিয়ে অন্য ইউরোপে অন্য কোনো ন্যাটো দেশে বা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রস্তাব কংগ্রেস আটকে দিয়েছিল; পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা বাতিল করেন। সেই সময় ট্রাম্প জার্মানিকে ‘খেলাপি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। কারণ দেশটির সামরিক ব্যয় ন্যাটোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ২% এর অনেক নিচে ছিল।তবে ম্যার্ৎস সরকারের আমলে সেই চিত্রের পরিবর্তন হয়েছে।

   

About

Popular Links

x