Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাতিসংঘ: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কোটি কোটি মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে

ডব্লিউএফপি জানায়, সংঘাত যদি ছয় মাস স্থায়ী হয়, তাহলে ৯০ লক্ষাধিক মানুষ মানবিক সহায়তা হারাতে পারেন

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে আরও কয়েক কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) এমন নৈরাশ্যজনক পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে বলে জানায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

ডব্লিউএফপি মার্চ মাসে সতর্ক করে বলেছিল, জুনের শেষ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থির থাকে, তাহলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়বে। তারা খাদ্যনিরাপত্তাহীন হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ৩২ কোটি মানুষের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হবে।

সংঘাত শুরুর প্রায় তিন মাস পর ডব্লিউএফপি’র খাদ্য ও পুষ্টি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ-মার্টিন বাউয়ার এএফপিকে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেতিবাচক পরিস্থিতির পূর্বাভাস এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ক্ষুধা বাড়ছে। চাল ও গমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘটছে।”

বাউয়ার বলেন, “বছরের শুরুতে যে নৈরাশ্যজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা এখন সত্যি হতে শুরু করেছে। আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সংস্থাটি বিভিন্ন মাত্রায় সংকটের প্রভাব পড়া কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে সোমালিয়ায়, বছরের শেষ নাগাদ আরও ২৫ লাখ মানুষ ন্যূনতম খাদ্যসামগ্রী কেনার সামর্থ্য হারাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউএফপি’র মতে, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের অস্থিতিশীল দেশটিতে প্রায় ৬০% পরিবার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে অক্ষম হবে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৪৭%।

বাউয়ার সতর্ক করে বলেন, “পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর যে বৈশ্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট দেখা দিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।”

তবে এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন। কারণ তখন সক্রিয় থাকা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা এখন বৈশ্বিক তহবিলের বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে চাপে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর এ চাপ বেড়েছে।

বাউয়ার বলেন, “২০২২ সালে মানবিক কর্মসূচিগুলোর অর্থায়ন তুলনামূলক ভালো ছিল। তখন মানবিক সহায়তা কর্মীরা যেসব এলাকায় কাজ করতেন, এখন অনেক জায়গায় তারা আর নেই।”

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত পরিবহন জটিলতা ও মূল্যস্ফীতিও বিশ্বব্যাপী ত্রাণ কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে।

ডব্লিউএফপি জানায়, ২০২৬ সালে তাদের পরিকল্পনার তুলনায় ১৫ লাখ কম মানুষকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। সংঘাত যদি ছয় মাস স্থায়ী হয়, তাহলে ৯০ লক্ষাধিক মানুষ মানবিক সহায়তা হারাতে পারেন।

   

About

Popular Links

x