Saturday, September 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভিয়েতনামে মাংস বিক্রির জন্য চুরি করা ৪০০ বিড়াল উদ্ধার

দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য চুরি ও পাচার হয় 

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

ভিয়েতনামে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি করা ৪০০-এর বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চুরির সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশটির একটি প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এই তথ্য জানায়। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

হো চি মিন সিটি পুলিশের তথ্য অনুসারে, গত সপ্তাহে তায় নিনহ প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪০০-এর বেশি জীবিত বিড়াল এবং প্রায় ৮০টি হিমায়িত বিড়ালের দেহ উদ্ধার করে। এছাড়া আরও ২১টি বিড়াল আলাদা একটি জায়গা থেকে জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিড়াল চুরি ও সংগ্রহকারী এই চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল ধরে এনে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। প্রতি দুই-তিন দিন অন্তর তারা চুরির মালামাল সংরক্ষণ কেন্দ্রে রেখে বিক্রি করত।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে একের পর এক পোষা প্রাণী চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ১১ জুন পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়। বর্তমানে তদন্ত চলছে। যাদের বিড়াল চুরি হয়েছে, তাদের উদ্ধার করা প্রাণী শনাক্ত করতে সরাসরি আসার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাণীকল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস জানায়, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিকে ইতোমধ্যে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে চুরি ও বন্দিদশার কারণে কয়েকটি বিড়াল পরে মারা গেছে। যেগুলো এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, সেগুলোকে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা দেওয়া হচ্ছে।  

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত বৈধ। তবে বিক্রেতাদের অনুমতিপত্র নিতে হয় এবং প্রাণীগুলো কোথা থেকে আসছে তা উল্লেখ করতে হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য ধরা, চুরি ও পাচার হয়।

চুরির সময় কুকুর ধরতে বিষ মেশানো ফাঁদ, টেজার কিংবা লোহার চিমটি ব্যবহার করা হয়। আর বিড়ালের ক্ষেত্রে স্প্রিংযুক্ত ফাঁদের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে জানায় সংস্থাটি।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও পোষা প্রাণীর মালিকদের মধ্যে এই প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ছে।

২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ কুকুর-বিড়ালের মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

   

About

Popular Links

x