Sunday, August 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অভিবাসীদের ঠেকাতে সমুদ্রে ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন

গত ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে আনুমানিক ৫০,০০০ অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:২১ পিএম

স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর আকস্মিক ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো ও সেউতার মধ্যবর্তী স্থানে সাগরে ভাসমান প্রতিবন্ধক (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপন করা হচ্ছে। 

শনিবার (১ আগস্ট) স্পেনের কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।  

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল হিসেবে পরিচিত সেউতা থেকে অধিকাংশ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর পর স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিল। যারা এখনো সেউতায় রয়ে গেছেন এবং পুলিশ ও স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতার চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। 

নতুন কাঠামোটি প্রায় ১,৬০০ ফুট দীর্ঘ এবং স্ফীত করা যায় এমন একটি ভাসমান প্রতিবন্ধক। এটি পানির নিচে সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর বাইরে স্পেনের নৌবাহিনী নোঙর করা বয়ার আরেকটি সারি বসিয়ে এ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে আনুমানিক ৫০,০০০-৬০,০০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮,৩০০ জনকে গত শুক্রবার শেষ বিকেলের মধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও শত শত অভিবাসী সারা রাত ধরে ছিটমহলটি ছেড়ে চলে যান।

সেউতায় নিযুক্ত স্পেন সরকারের একজন গণমাধ্যম কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শহরটিতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সেউতার এ সংকটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২০টির বেশি সদস্যদেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানায়। একই সময় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও কমিশনকে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি তার সরকারের অভিবাসন নীতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং স্পেনকে শেনজেন অঞ্চলের মুক্ত চলাচল ব্যবস্থার বাইরে রাখার আহ্বান জানানো ব্যক্তিদের ‘স্বার্থপর’ বলে আখ্যায়িত করেন।

গত শনিবার সেউতা শহরের একটি সৈকতে আফ্রিকার অন্য দেশ থেকে আসা কয়েক শ অভিবাসীকে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। অন্য দেশের নাগরিক হওয়ায় স্পেন তাদের মরক্কোয় ফেরত পাঠাতে পারবে না বলে তারা বিশ্বাস করেন এসব অভিবাসীর অনেকেই। তাদের দাবি, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তারা কিছু খাননি।

সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই ছিলেন কাজের সন্ধানে আসা তরুণ মরক্কোর নাগরিক। গতকাল শহরটির উত্তর-পশ্চিমের একটি সৈকতে আফ্রিকার অন্য দেশ থেকে আসা কয়েক শ অভিবাসীকে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

সেউতায় আসা ২৪ বছর বয়সী কামাল ওমর বলেন, ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি সুদান ছেড়েছিলেন। গত বছর মরক্কোতে পৌঁছান। তিনি বলেন, “আমি মরক্কোতে ফিরতে চাই না। দয়া করে আমাদের সুরক্ষা দিন।”

এ পর্যন্ত স্পেন সরকার মূলত মরক্কোর সঙ্গে সেউতার সীমান্ত আরও শক্তিশালী করার দিকেই নজর দিয়েছে।

   

About

Popular Links

x