Friday, August 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে পাল্টে দিলেন ট্রাম্প

কানাডার সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ শুল্কযুদ্ধের মধ্যেই এই উদ্যোগ নিলেন তিনি 

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

কানাডার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধের মধ্যেই উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, একই কায়দায় গালফ অব মেক্সিকোকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ বানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।  

গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে গ্রেট লেকসের মানচিত্র সামনে রেখে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার সামনে রাখা একটি মানচিত্রে লেক অন্টারিওর জায়গায় ইতোমধ্যে ‘লেক আমেরিকা’ লেখা ছিল। সেখানে থাকা আরেকটি মানচিত্রের শিরোনাম ছিল ‘মেকিং দ্য গ্রেট লেকস ইভেন গ্রেটার’, যা ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর সঙ্গে মিল রেখে তৈরি।

ট্রাম্প বলেন, “লেক অব আমেরিকা নামটি নিয়ে তিনি অনেক দিন ধরেই ভাবছিলেন।আমাদের একটি উপসাগর আছে এবং একটি লেকও আছে। এখন শুধু একটি মহাসাগর দরকার। তাই হয়তো আমাদের আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করতে হবে। হয়তো দুটিরই নাম বদলে দেব।”

নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগাম এবং ভৌগোলিক নামবিষয়ক বোর্ডকে ৩০ দিনের মধ্যে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভৌগোলিক নামসংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থা সংশোধনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মানচিত্র, নথি, চুক্তি ও সরকারি যোগাযোগেও নতুন নাম ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার পরিচালক জানিয়েছেন, সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক ইলেকট্রনিক নথিতে ইতোমধ্যে ‘লেক আমেরিকা’ নামটি কার্যকর করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে মুদ্রিত নথিতেও পরিবর্তন আনা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কানাডার ওপর কার্যকর করার ক্ষমতা ওয়াশিংটনের নেই। ফলে কানাডা চাইলে নিজস্ব সরকারি নথি ও ব্যবহারে আগের নামই রাখতে পারবে।

ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। ট্রাম্প কানাডার কয়েকটি পণ্যে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর কথা জানিয়েছে কানাডাও।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দ্রুত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “লেক অন্টারিও নামটির ইতিহাস চার শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার আগেই নামটি ব্যবহৃত হতো।”

কার্নি আরও বলেন, “কানাডা এই জলাশয়কে ‘চিরকাল’ লেক অন্টারিও নামেই ডাকবে।”

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নামটি ওয়েনডাট ভাষার ‘ওন্টারিইও’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ সুন্দর বা বড় হ্রদ।

অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “কানাডীয়দের কাছে এবং বিশ্বের অন্যদের কাছেও এটি লেক অন্টারিও নামেই পরিচিত এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।”

এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করেছিলেন ট্রাম্প। ওই সিদ্ধান্তও মেক্সিকোর পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। পরে গুগল তাদের মানচিত্রে ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী দুই নামই দেখানোর ব্যবস্থা করে।

লেক অন্টারিও কানাডার অন্টারিও প্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মাঝখানে অবস্থিত। নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হ্রদটির গভীরতম অংশ ও পানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ‘লেক আমেরিকা’ নামটি ওই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। তিনি জলাশয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

এদিকে নাম পরিবর্তনের ঘোষণার পাশাপাশি কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার মতে, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করা সবচেয়ে কঠিন। কানাডার কর্মকর্তাদের আচরণেরও সমালোচনা করেন তিনি।

দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার বাণিজ্য প্রতিনিধি ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্কের সঙ্গে বর্তমানে সক্রিয় আলোচনা চলছে না। তবে দুই কর্মকর্তার মধ্যে যোগাযোগের সম্পর্ক এখনো রয়েছে বলেও জানান তিনি।

   

About

Popular Links

x