ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ছয় হাজার কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল মজুতের নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এই ঐতিহাসিক লেনদেনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে।” একইসঙ্গে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলতি বছর ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির বিশাল তেলসম্পদ কাজে লাগানোর কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে দুই দেশের জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এতে হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের গতি বাড়বে।”
তবে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তিটি সম্পন্ন করেছেন। তবে ওই অংশীদারিত্বের ধরন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী কী শর্ত বা প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে বলেন, “এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে দেশটির হাইড্রোকার্বন শিল্পের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ আসবে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা থাকা ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের জন্য ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব আসতে পারে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, চুক্তির অধীনে ভেনেজুয়েলার একটি অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গঠিত যৌথ উদ্যোগের ৫৫% নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার রাখবে। রদ্রিগেজ ওই যৌথ উদ্যোগকে তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমোদন দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
গত ৩ জানুয়ারি ট্রাম্পের অনুমোদনে পরিচালিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নিরাপদ ও যথাযথ হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। একইসঙ্গে দেশটির তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণ রাখবে বলেও জানিয়েছিলেন।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। এর পরিমাণ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
ট্রাম্প এর আগে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনরুদ্ধারে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা অতীতে একতরফাভাবে মার্কিন তেল, সম্পদ ও তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম দখল করে বিক্রি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।



