Saturday, August 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফিফাকে ঘুষ দেওয়ায় ২ আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ীকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা

লাভজনক মিডিয়া ও বিপণনস্বত্ব পেতে ফুটবল কর্মকর্তাদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন তারা 

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

ফিফার দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন ব্যবসায়ী হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস। সম্পর্কে তারা বাবা-ছেলে।  

এই দুজন বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্টের লাভজনক মিডিয়া ও বিপণনস্বত্ব পেতে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর পর তারা এই স্বীকারোক্তি দেন। ‘ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ডিপিএর আওতায় তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণার অভিযোগে বিচার আর এগোবে না। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করতে সম্মত হয়েছেন তরা।

হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘ফুল প্লে’র সহমালিক। ২০১৫ সালে ফিফা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ব্যাপক দুর্নীতি তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

কী অভিযোগ ছিল?

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, জিনকিসরা এমন একটি পরিকল্পনা করেছিলেন, যার মাধ্যমে ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলকে প্রতারণা করা হয়।

নথিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের লাভজনক মিডিয়া ও বিপণনস্বত্ব পেতে ফুটবল কর্মকর্তাদের সমর্থন আদায়ের জন্য জিনকিসরা ‘কয়েক কোটি ডলার বাণিজ্যিক ঘুষ’ দিয়েছেন এবং আরও ঘুষ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিয়ার মতো প্রতিযোগিতার ম্যাচের মিডিয়া স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও ঘুষের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, এই ঘুষ লেনদেনের লক্ষ্য ছিল মাঠের ফলাফল প্রভাবিত করা নয়; বরং বড় ফুটবল প্রতিযোগিতার সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা নিশ্চিত করা।

এক দশক আগে শুরু সেই তদন্ত

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ফিফার দুর্নীতি নিয়ে যে তদন্ত শুরু হয়, তা বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তদন্তে ফিফার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ ও কনমেবলের একাধিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে।

তদন্তের অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এরপর একের পর এক গ্রেপ্তার, বিচার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। অনেক কর্মকর্তা আবার আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন।

সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় হুগো ও মারিয়ানো জিনকিসের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখোমুখি হওয়ার বদলে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সমঝোতায় গেলেন তারা।

সমঝোতার শর্ত

চুক্তি অনুযায়ী, জিনকিসদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে তারা ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পনা করার কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি ৫০ মিলিয়ন বা পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করতেও সম্মতি দিয়েছেন বাবা-ছেলে।

বাণিজ্যিক স্বত্বই ছিল মূল লক্ষ্য

জিনকিসদের প্রতিষ্ঠান ‘ফুল প্লে’ আন্তর্জাতিক ফুটবলের মিডিয়া ও বিপণনস্বত্বের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো প্রতিযোগিতার সম্প্রচারস্বত্ব বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত মূল্যবান।

আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সমর্থন নিশ্চিত করতেই জিনকিসরা ঘুষের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তাদের স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত ফিফা দুর্নীতি তদন্তের আইনি প্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো।

   

About

Popular Links

x