Thursday, August 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ড্রেসিংরুমে কিছু একটা ঘটেছিল’- এবার মুখ খুললো আর্জেন্টিনা

ফাইনালের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ নিয়ে কথা হয়

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের জবাব দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগকে ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ ও ‘নিকৃষ্ট অপপ্রচার’ বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।

ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং দলীয় মনোভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এমনকি কেউ কেউ ইঙ্গিত দেন, ম্যাচে আর্জেন্টিনা নাকি নিজেদের সেরাটা দেয়নি। এসব থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে- ‘কিছু একটা ঘটেছিল’।

ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে এএফএর প্রকাশিত ভিডিওতে খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ‘কখনো হাল ছেড়ো না’ বার্তা দেওয়া হয়। ভিডিওর নেপথ্য ধারাভাষ্যে বলা হয়, এক মাস আগে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’। তবে সেটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং একটি দল আরেকটি ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করেছিল।

ভিডিওতে বলা হয়, আর্জেন্টিনা একের পর এক ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে। ফাইনালে শেষ পর্যন্ত হারলেও দলটি কখনো হাল ছাড়েনি।

এএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়, আর্জেন্টিনাবিরোধী নানা প্রচারণার মধ্যেও দলটি ফাইনালে পৌঁছেছিল। ‘কিছু একটা ঘটেছিল’—এমন কথা যারা বলবেন, তাদের উদ্দেশে সংস্থাটির বক্তব্য, হ্যাঁ, কিছু একটা ঘটেছিল; একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছিল। তবে এবার তাদের হার মেনে নিতে হয়েছে।

ভিডিওতে ফাইনালের পর রানার্সআপ পদক নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির কান্নার দৃশ্যও দেখানো হয়। সেখানে বলা হয়, মেসির সেই কান্না আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, জয়-পরাজয় যাই আসুক, কখনো হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

এদিকে ফাইনালের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি ফাইনালের পর দলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের তীব্র সমালোচনা করেন।

তাপিয়ার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি ‘জঘন্য অপচেষ্টা’ চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়, যেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ম্যাচটি ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তিনি জানান, ফাইনালের এক মাস পেরিয়ে গেলেও যারা এসব অভিযোগ করেছিলেন, তাদের কেউ ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চাননি। এমনকি কেউ সামনে এসে বলেননি যে তারা ভুল ছিলেন।

এএফএ সভাপতি অভিযোগ করেন, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন বাইরে থেকে কিছু মানুষ উল্টো জাতীয় দলকে ঘিরে ঘৃণা, বিভাজন ও অপপ্রচার ছড়িয়েছেন। কোটি মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করা একটি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তাপিয়া আরও জানান, চুপ করে থাকা বা সময়ের সঙ্গে বিষয়টি ভুলে যাওয়ার অপেক্ষা করা সমাধান নয়। কোনো প্রমাণ ছাড়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বার্তার শেষ দিকে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ, সহায়ক কর্মী ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এএফএ সভাপতি বলেন, যারা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

   

About

Popular Links

x