Thursday, August 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড

শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন টাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

বগুড়ার শেরপুরে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নিজ শিশুকন্যাকে ধর্ষণের দায়ে বাবা আবদুল খালেককে (৫১) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা পরিশোধ না করলে তার সম্পত্তি বিক্রি করে ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে জনাকীর্ণ আদালতে শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন টাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা  দায়রা জজ মারুফ হোসেন এ রায় দেন। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আলী আসগর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল খালেক বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। আবদুল খালেকের সঙ্গে প্রথম স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তার শিশুকন্যা সৎ মায়ের ঘরে বাবার সঙ্গে থাকতো।

গত ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আবদুল খালেক তার শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির সৎ মা স্থানীয় একটি চাতালে ধান সেদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন খালেক।

এদিকে শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। সে বাড়ির কাজ করা বন্ধ করে দিলে সৎ মা তাকে শাসন করেন। একপর্যায়ে শিশু তাকে ধর্ষণের কথা সৎ মাকে জানায়। তবে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়ের ধর্ষণের অভিযোগ বিশ্বাস করতে পারেননি। সৎ মা শিশুকে মারপিট করতে থাকেন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার শিশু বিষয়টি তার দুই সহপাঠীকে অবহিত করে। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরে এলাকাবাসীরা শেরপুর থানায় অবহিত করেন। এরপর শিশুর মা ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর শেরপুর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন টাইব্যুনালের পিপি আলী আসগর বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। তিনি (খালেক) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত একমাত্র আসামি আবদুল খালেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এছাড়া তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার সম্পত্তি বিক্রি ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন মামলা পরিচালনা করেন।

   

About

Popular Links

x