Thursday, September 03, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নিলো নেদারল্যান্ডস

সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহার ও লেনদেনের সুবিধার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে 

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা ৮৬ টন স্বর্ণ লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহার ও লেনদেনের সুবিধার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য নেদারল্যান্ডস ব্যাংক (ডিএনবি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডিএনবির মতে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে রাখা স্বর্ণ দ্রুত ও সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে সংকটের সময় তা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব।

এ বিষয়ে ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেন, “এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। আমরা আশা করি, আমাদের কখনোই এসব স্বর্ণ ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। তবে আমাদের প্রস্তুতি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।”

ডিএনবি আরও জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের মজুত ছিল ৬১২.৪ টন। ওই সময় এর মূল্য ছিল ৭২.২ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৮৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

স্বর্ণ সরানোর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের ৩১.৩% ছিল নিউইয়র্কে। আর ১৯.৭% ছিল কানাডার রাজধানী অটোয়ায়। স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা - উভয় দেশেই  নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের মজুতের পরিমাণ কমে ১৮.৫% হয়েছে।

অন্যদিকে লন্ডনে থাকা স্বর্ণের পরিমাণ ১৮.১% থেকে বেড়ে ৩২.১% হয়েছে। আর নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভূখণ্ডে এখনও মোট স্বর্ণের ৩০.৮% রয়েছে।

ব্যাংকটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি স্বর্ণ সরাসরি নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। পরে একই পরিমাণ স্বর্ণ জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এতে স্বর্ণের বারগুলো গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।

ডিএনবি বলেছে, “কেনাবেচা ও সরাসরি পরিবহনের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সরানোর ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।”

চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ব্যাংকটি জানিয়েছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ বলেন, “এক দশক ধরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের স্বর্ণের মজুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে আসছে। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বর্ণ রাখার জন্য অন্য জায়গাকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “লন্ডনের স্বর্ণের বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও তারল্যপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। তাই সংকটের সময় সেখানে থাকা স্বর্ণ দ্রুত ব্যবহার করা সহজ।

শোয়ার্টজ বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সহজে তাদের স্বর্ণ ঋণ দিতে পারে।”

সিটে জেস্টিওন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার্ড বলেন, “নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো কোনো সংকট দেখা দিলে স্বর্ণের আরও তাৎক্ষণিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও বলেন, “আপাতত এটি বেশ একক একটি পদক্ষেপ। তবে অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও একইভাবে স্বর্ণ সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্কে থাকা জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের মজুতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেস ব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের স্বর্ণের মজুত সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

   

About

Popular Links

x