নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকায় হিমবাহধস ও আকস্মিক বন্যার পর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়ে টানা নয় দিন অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকা দুই জলবিদ্যুৎকর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরের একটি ছোট ‘এয়ার পকেট’ বা বাতাসের ফাঁকা জায়গাই শেষ পর্যন্ত চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের প্রাণ বাঁচিয়ে রাখে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আগস্টের শেষ দিকে ত্রিশূলি উপত্যকায় হিমবাহধস ও প্রবল বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। এতে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকেই নিখোঁজ হন। বিপর্যয়ের সময় 'আপার ত্রিশূলি থ্রি-এ' জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ স্টেশনে কর্মরত ছিলেন কবির মহারজন ও সঞ্জয় সাহ নামের দুই কর্মী। পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা ও পানির প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তারা সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়েন।
প্রাণ বাঁচাতে দুই কর্মী সুড়ঙ্গের নির্গমনপথ থেকে প্রায় ১৬০ মিটার ভেতরে অপেক্ষাকৃত উঁচু ও ঢালু ‘কেবল-ডাক্ট টানেলে’ আশ্রয় নেন। সেখানে কাদাপানি পুরোপুরি না পৌঁছানোয় বাতাসের জন্য সামান্য একটি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখতে সাহায্য করে।
এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের একটি প্রতিনিধি দল টানা বৃষ্টি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়েই দিনরাত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকারীরা বিশেষ ওয়াটার জেট ব্যবহার করে কাদা সরিয়ে এবং বায়ু চলাচলের জন্য ড্রিল করে সুড়ঙ্গে আলো পৌঁছালে ভেতরের হাত দেখে জীবিতদের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
টানা ৯ দিন বন্দি থাকার পর তাদের জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন খাবার না পেয়ে ও আশঙ্কাজনক পরিবেশে থাকায় তাঁরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও বর্তমানে চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।



