ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ব্যয় হতে পারে সর্বোচ্চ ৩.৩ বিলিয়ন ডলার।
মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।
৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৮১টি ফিক্সড-উইং ও রোটারি-উইং উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। তালিকায় মনুষ্যবিহীন ড্রোনও রয়েছে।
সিআরএস জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতি, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সামরিক অভিযান চলমান থাকায় এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। পাশাপাশি কিছু তথ্য শ্রেণিবদ্ধ হওয়া এবং নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী পক্ষ চিহ্নিত করার জটিলতার কারণেও হিসাবের পরিবর্তন হতে পারে। তালিকাভুক্ত কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ ইতোমধ্যে আবারও সেবায় ফিরেছে।
ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় এফ-১৫, এফ-৩৫ ও রিপার
সিআরএসের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ এবং এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ১২টি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ভুলবশত নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়। এ ছাড়া
এপ্রিল মাসে ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের সময় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হয়।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ-ও এই তালিকায় রয়েছে। ১৯ মার্চ ইরানের হামলায় বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সেটিকে আবারও সেবায় ফিরিয়ে আনা হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ড্রোনে
মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে ড্রোন। সর্বশেষ হিসাবে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এমকিউ-৯ রিপার মূলত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩.৩ বিলিয়ন ডলারের হিসাব কীভাবে
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৩.৩ বিলিয়ন ডলার শুধু ৮১টি উড়োজাহাজের দাম নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অফিস (সিবিও) ১ আগস্ট পর্যন্ত হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের সম্ভাব্য ব্যয় ১.৯ বিলিয়ন থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে হিসাব করেছিল।
পেন্টাগন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করবে, তার ওপর নির্ভর করেই ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
অর্থাৎ, ৩.৩ বিলিয়ন ডলার হলো হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের সর্বোচ্চ আনুমানিক ব্যয়; এটি ৮১টি উড়োজাহাজের সরাসরি আর্থিক মূল্য নয়।



