Tuesday, October 13, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাত্র ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে জেতার সুযোগ ১৪ হাজার ডলার

সোমবার টোকিওতে ম্যাটরেস প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা  

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

ব্যস্ত দিনের শেষে বিছানায় শুয়েও অনেকের ঘুম আসতে চায় না। এদিকে কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা আর যাতায়াতের ক্লান্তিতে পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগও মেলে না। জাপানে ঘুমের অভাব এমনই এক পরিচিত সমস্যা। তবে এবার ঘুম নিয়ে দেশটিতে হয়েছে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। সেখানে কে সবচেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারেন, কার ঘুম সবচেয়ে গভীর ও প্রশান্ত হয় - তা নিয়েই প্রতিযোগিতা। 

সোমবার টোকিওতে গদি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা। ‘ম্যাট রেস’ নামের এই আয়োজনে অংশ নেন কয়েক ডজন প্রতিযোগী। তাদের জন্য ছিল আরামদায়ক গদি, মৃদু আলো আর নিশ্চিন্তে ঘুমানোর পরিবেশ। তবে শুধু ঘুমালেই চলবে না, ঘুমের ধরন ও মানও হতে হবে ভালো। আর সেই ঘুমের জন্যই বিজয়ী পেতে পারেন ২০ লাখ ইয়েনের বেশি, যা প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মাথায় বিশেষ পর্যবেক্ষণযন্ত্র পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাদের শুয়ে পড়তে বলা হয় আরামদায়ক গদিতে। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর সুযোগ ছিল তাদের। কে কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছেন এবং ঘুম কতটা গভীর ও প্রশান্ত হচ্ছে, এই দুই বিষয় বিবেচনা করেই বেছে নেওয়া হয় বিজয়ীকে।

মৃদু আলোয় সাজানো ঘরে কেউ কেউ ঘুমানোর সময় বুকে জড়িয়ে নেন নরম খেলনা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তারা নিছক আরাম করে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু এই ঘুমের মধ্যেই চলছিল প্রতিযোগিতা। ঘুমের মান যাচাইয়ের জন্য ছিল বিশেষ যন্ত্রের নজরদারি।

প্রতিযোগিতাটির পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানকারী ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা বলেন, “জাপানকে প্রায়ই ঘুমের অভাবে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এখানকার মানুষও অত্যন্ত কর্মঠ।”

নাকামার আশা, ঘুমকে এভাবে একটি আয়োজনের অংশ করে তুললে মানুষ একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ঘুমের গুরুত্ব নিয়েও তাঁদের আগ্রহ বাড়বে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ সময় ছিল সবচেয়ে কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে বেশি সময় ব্যয় এবং রাতের ব্যস্ত বিনোদনজীবন জাপানিদের কম ঘুমানোর অন্যতম কারণ। অর্থাৎ, কাজ ও দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করাই অনেকের কাছে কঠিন হয়ে উঠেছে।

এমন বাস্তবতায় ঘুমকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারীদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। ৩২ বছর বয়সী প্রতিযোগী চিসাতো হোন্ডা বলেন, “মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। ইশ্, যদি আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারতাম!”

তিনি বলেন, “এটি ছিল আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা।”

এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন সুইমি। পুরস্কারের অর্থ কীভাবে খরচ করবেন, সে পরিকল্পনাও রয়েছে তার। সুইমি বলেন, “আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই পুরস্কারের অর্থ দিয়ে বাসা বদলের খরচ মেটানোর কথা ভাবছি।”

তবে তার ইচ্ছা শুধু বাসা বদলেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজের জন্য রাজকুমারীর মতো একটি বিছানাও চান তিনি। সুইমির কথায়, “আমি রাজকুমারীর মতো  একটি বিছানাও চাই। তাই সেই বিছানাটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।”

ঘুম নিয়ে প্রতিযোগিতা - বিষয়টি শুনতে মজার মনে হলেও জাপানের কর্মব্যস্ত জীবনে এর পেছনে রয়েছে বাস্তবতা। যেখানে দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম পাওয়া কঠিন, সেখানে ঘুমের জন্যই আয়োজন করা হয়েছে প্রতিযোগিতা। আর সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর পুরস্কার এমন, যা দিয়ে নিজের জন্য নতুন বিছানা কেনার স্বপ্নও পূরণ হতে পারে।

   

About

Popular Links

x