মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চাউকিট এলাকায় তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অর্থপাচার বা হুন্ডি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ ঘটনায় ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালয়মেইলের বুধবারের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এক মাসের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশেষ এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ২৪ থেকে ৪২ বছর বয়সী ৮ বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। চক্রটি খুচরা ও পাইকারি দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।
তিনি বলেন, “চক্রটি মূলত কুয়ালালামপুরের ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করত। বিদেশি এজেন্টদের নামে নিবন্ধিত ই-ওয়ালেট ও স্থানীয় ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে তারা লেনদেন চালাত। যেসব গ্রাহকের ই-ওয়ালেটে প্রবেশাধিকার ছিল না, তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে তা স্থানান্তর করা হতো।“
তদন্তে দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের এজেন্টরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং কার্যদিবস অনুসরণ করে, অর্থাৎ রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লেনদেন করত। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টগুলোতে ১ লাখ ৮০ হাজার রিংগিতের বেশি লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া গেছে।
অভিযানে অবৈধ আয়ের ২৪ হাজার ৭২০ রিংগিত নগদ, পাঁচটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, সিসিটিভি সরঞ্জাম, কিউআর কোড ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক নথি জব্দ করা হয়েছে। জব্দ নথির মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের নথির কপি, কুয়ালালামপুর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স, দোকানের সিল ও চাবি।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ৮ জনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন পাসের শর্ত লঙ্ঘন বা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তদন্তে সহায়তার জন্য আরও দুই বাংলাদেশি পুরুষ এবং একজন মালয়েশীয় পুরুষ ও একজন মালয়েশীয় নারীকে ইমিগ্রেশন অফিসে হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।



