সম্প্রতি আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মারা যাওয়ার হার বেড়েই চলেছে। তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে ২৮ এপ্রিল ৪১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির উপকূল রক্ষীরা।
দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১০ দিনে প্রায় ২০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তিউনিসিয়ার মর্গগুলোতে জায়গা নেই। কর্মকর্তারা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বন্দর শহর স্ফ্যাক্সের বিচার কর্মকর্তা ফৌজি মাসমুদি বলেন, “মঙ্গলবার আমাদের কাছে হাসপাতালের ধারণক্ষমতার বাইরে ২০০ টিরও বেশি লাশ ছিল। যা স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করছে।”
তিনি জানান, প্রায় এক মিলিয়ন মানুষের জন্য তাদের একটি কেন্দ্রীয় মর্গ আছে।
মাসমুদি বলেন, “প্রচুর লাশ তীরে আসায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আমরা জানি না তারা কারা বা কোন জাহাজ থেকে তারা এসেছেন। ক্রমেই মর্গে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা বাড়ছে।”
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার মতে, গত দেড় সপ্তাহে প্রায় ৩০০ জন মারা গেছেন এবং চলতি বছর ৮২৪ জন মারা গেছেন।
ন্যাশনাল গার্ডের হাউসেম এডদিন জেবালি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, “উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর পচনশীল অবস্থা দেখে বোঝা যায় যে তারা টানা কয়েকদিন পানিতে ডুবে ছিল।” তার মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক মৃত্যু নজিরবিহীন।
সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে তিউনিসিয়া একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের মিসিং মাইগ্রেন্ট প্রজেক্টের তথ্যানুসারে, শুধুমাত্র গত ১০ দিনে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে ৩০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন।



