Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক চোখে দেখছেন না, এক হাতও অবশ সালমান রুশদির

১৯৮৮ সালে তার চতুর্থ উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশিত হওয়ার পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পরের বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই লেখককে হত্যার ফতোয়া দিয়েছিলেন

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:৩০ পিএম

নিউ ইয়র্কে সাহিত্য অনুষ্ঠানে মঞ্চে হামলায় আহত লেখক সালমান রুশদি এক চোখে দেখছেন না। এছাড়া তার একটি হাতও অবশ হয়ে পড়েছে।

রুশদির এজেন্টের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্প্যানিশ পত্রিকা এল পাইসের সাথে এক সাক্ষাত্কারে এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, রুশদির আঘাত গুরুতর ছিল। তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছে। তার ঘাড়ে তিনটি গুরুতর ক্ষত ছিল। বাহুর নার্ভ কেটে যাওয়ায় তার একটি হাত অবশ হয়ে গেছে। তার বুকে ও ঘাড়ে আরও প্রায় ১৫টি ক্ষত রয়েছে। এটি একটি নৃশংস হামলা ছিল।

গত ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের শিটোকোয়া ইনস্টিটিউটে সাহিত্যবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হাদি মাতার (২৪) নামের এক লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হঠাৎ করেই দৌড়ে মঞ্চে উঠে এসে ঘুসি ও ছুরিকাঘাত করতে থাকে ৭৫ বছর বয়সী এই সাহিত্যিককে। এতে তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে তার পেট ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করা হয়।

পরে গুরুতরভাবে আহত রুশদিকে তখন হেলিকপ্টারে করে পেনসিলভানিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়।

রুশদির এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি সে সময় জানিয়েছিলেন, রুশদি একটি চোখ হারাতে বসেছেন। তার হাতের নার্ভগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ছুরিকাঘাতে লিভারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১৯৮৮ সালে তার চতুর্থ উপন্যাস ‘‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস'' প্রকাশিত হওয়ার পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পরের বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই লেখককে হত্যার ফতোয়া দিয়েছিলেন। সেই ফতোয়ার তিন দশক পর নিউইয়র্কে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই ঘাতক হাদি মাতারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই হামলার দুই সপ্তাহ আগে অবশ্য রুশদি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, হামলার ভয় কেটে গেছে, তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

সালমান রুশদির জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে। ১৪ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে পড়াশোনা শেষে লেখালেখি শুরু করেন। ‘মিডনাইট চিলড্রেন' উপন্যাসের জন্য ১৯৮১ সালে বুকার পুরস্কার লাভ করেন। এ বইটির পর তিনি পেশাদার লেখকে পরিণত হন। এর আগপর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যে কপিরাইটার হিসেবে কাজ করেছেন।

   

About

Popular Links

x