গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কাছে ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৫০টি ইউনিট।
দেশটির সরকার বলছে, প্রচণ্ড বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে। আগুন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে কিছুদিন ধরে তাপপ্রবাহ চলছিল। এখন সেখানে ৭০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইছে।
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দেশটির একটি গ্রীষ্মকালীন শিবির থেকে এক হাজারেরও বেশি শিশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ইওনিস আর্টোপোইওস টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে বলেন, “উচ্চ বাতাসের গতির কারণে, আগুন দুই ঘণ্টার মধ্যে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।”
রয়টার্সকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ভয়াবহ এই আগুনে অন্তত পাঁচটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এই আগুন লাগোনিসির সমুদ্রতীরবর্তী আবাসিক এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মূলত গ্রীষ্মকালীন রিসোর্ট হিসেবে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গ্রিসে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রীষ্মকালীন শিবির থেকে এক হাজারেরও বেশি শিশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূলত ভূমধ্যসাগরীয় তাপপ্রবাহের প্রভাবে দেশটিতে দুটি পৃথক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বের কাউভারাসে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রিক সরকার জানিয়েছে, তারা সোমবার সারাদেশে মোট ৮১টি অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় লড়াই করেছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাসের কারণে মঙ্গলবার আরও তীব্র আগুনের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।
গ্রিসের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্রিস, তুরস্ক এবং ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় তাপপ্রবাহ আরও বাড়তে পারে।
গ্রিসে গ্রীষ্মকালে দাবানল সাধারণ বিষয়। গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ ইউরোপের অনেক দেশের মতো গ্রিসেও তাপমাত্রা সমানে বাড়ছে। মধ্য গ্রিসে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে এথেন্স-সহ বেশ কিছু জায়গায় দাবানল-সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
২০১৮ সালে এথেন্সের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রতীরবর্তী একটি শহরে দাবানলের ঘটনায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।



